বিশ্ব সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশি স্টল গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় আগুন দিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা। গত মঙ্গলবার ভারতের পুনেতে অবস্থিত এমআইটি ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত বিশ্ব সাংস্কৃতিক উৎসবে এই ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক কূটনৈতিক সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে।
বুধবার ওই সূত্রগুলো জানায়, সাবিত্রী বাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে (এসপিপিইউ) অধ্যয়নরত ১২ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একটি দল বিশ্ব সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগ দেয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাদের একটি স্টল বরাদ্দ করা হয়। উৎসবের রীতি অনুযায়ী, সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। উৎসব চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি এসে বাংলাদেশ স্টলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, তাদের ভারতে অবস্থানের আইনি ভিত্তি কী? তারা জানায়, তারা সেখানে অধ্যয়নরত। তারপরও ওই ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি অবিলম্বে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর বিকাল ৫টার দিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বজরং দলের ২০-২৫ জনের একটি জঙ্গি দল ‘বন্দে মাতরম’র পাশাপাশি বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে বাংলাদেশি স্টলে হামলা চালায় এবং স্টলটি মাটির সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। সেখানে তারা বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে বাংলাদেশবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় তারা ঘোষণা দেয়, বাংলাদেশ নামের কোনো কিছুই থাকবে না ভারতে। সবশেষ এই হিন্দু জঙ্গিরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননা করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পতাকা পোড়ানোর সময় উল্লাসে মেতে ওঠে হিন্দু বজরং দলের জঙ্গিরা। এ সময় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আক্রমণ থেকে বাঁচতে নিরাপদ স্থানে চলে যায়।
এই ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে আক্রমণের শিকার না হলেও তাদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একাধিক শিক্ষার্থী বলেছেন, একটি সাংস্কৃতিক উৎসবের মতো স্থানে এ ধরনের ঘটনায় তারা চরম উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় পুনেতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীদের মাঝেও আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার উৎখাতের পর থেকে বাংলাদেশবিরোধী নানা ধরনের অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে দিল্লি। হিন্দু নির্যাতনের ভুয়া অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বারবার। পতিত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে চালানো হয়েছে নানা অপতৎপরতা। এমনকি দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে একের পর এক তাণ্ডব চালানো হয়। বাংলাদেশের ভিসা সেন্টার পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে হিন্দু জঙ্গিদের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশবিরোধী এসব অপতৎপরতা চালানো হয়েছে মোদি সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে। সবশেষ হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিদের দাবি মেনে আইপিএল থেকে বহিষ্কার করা হয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ।