শিশুদের বন্ধু হয়ে উঠেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান—এমন দৃশ্যই বারবার দেখা গেছে তার নির্বাচনী প্রচারে। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি শিশুদের সঙ্গে আন্তরিকতা ও স্নেহের আচরণ দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়ছেন তিনি।
গেল বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, “আমি শিশুদের বন্ধু, যুবকদের ভাই। বয়স্কদের সহযোদ্ধা। বোনদের ভাই। তাদের মুক্তির জন্য দায়িত্ব নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।” সেই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচনী প্রচারণাতেও শিশুদের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ও সান্নিধ্য চোখে পড়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গত ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা। এরপর ভোটের আগে পর্যন্ত তিনি অন্তত ৬২টি জনসভায় অংশ নেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত এসব সভায় কখনো গাড়িতে, কখনো হেলিকপ্টারে করে পৌঁছেছেন তিনি। তবে প্রতিটি জনসভা ও গণসংযোগে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রায়ই দেখা গেছে, সভাস্থলে পৌঁছামাত্র শিশুরা তাকে ঘিরে ধরছে এবং ‘দাদু’ বলে ডাকছে। তাদের ডাক উপেক্ষা না করে বরং স্নেহভরে কাছে টেনে নিয়েছেন তিনি। শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, তাদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা চকলেট উপহার দেওয়ার মতো দৃশ্যও ছিল নিয়মিত। এতে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।
রাজনৈতিক অঙ্গনে শিশুদের প্রতি এমন আচরণ তুলনামূলকভাবে বিরল বলেই মনে করছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার এই উদ্যোগ তার প্রচারণাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ ভোটের দিনে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ এক সময় পার করছেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণায় শিশুদের সঙ্গে গড়ে ওঠা এই আবেগঘন সম্পর্ক ইতোমধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।