Image description

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই ফরাসি–ইসরাইলি নাগরিকের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যায় জড়িত থাকার’ সন্দেহে পরোয়ানা জারি করেছে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ। সোমবার একটি আইনি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি এনজিওর আইনজীবী জানান, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার ঘটনাকে সম্ভাব্যভাবে ‘গণহত্যায় সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, এই প্রথম কোনো দেশ এমন অভিযোগে তদন্ত শুরু করল।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই মাসে ‘ইসরাইল ইজ ফরেভার’ সংগঠনের নিলি কুপফার-নাউরি এবং টিএসএভি ৯ গ্রুপের র‌্যাচেল তৌইতুর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

 

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এবং গত বছরের মে মাসে নিতজানা ও কেরেম শালোম সীমান্ত চৌকিতে গাজায় প্রবেশকারী ত্রাণবাহী ট্রাক আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। পরোয়ানায় তাদের তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে, তবে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

 

কুপফার-নাউরির আইনজীবী অলিভিয়ার পার্দো বলেন, এসব কর্মকাণ্ড ছিল ‘শান্তিপূর্ণ’ এবং এর উদ্দেশ্য ছিল হামাসসহ অন্যান্য গোষ্ঠীর দ্বারা মানবিক সহায়তা ছিনতাইয়ের নিন্দা জানানো। তার দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকেই এসব গোষ্ঠী ত্রাণ অপব্যবহার করছে।

 

৩৪ বছর বয়সী র‌্যাচেল তৌইতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মানবিক সহায়তা সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে পড়ার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করাকে যদি অপরাধ বলা হয়, তবে ফ্রান্সের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।

 

অন্যদিকে, এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫০ বছর বয়সী কুপফার-নাউরি ফরাসি তদন্তকে ‘ইহুদি-বিরোধী উন্মাদনা’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর আইনজীবী জানান, তিনি বর্তমানে ইসরাইলে অবস্থান করছেন এবং ফরাসি তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত।

 

তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘গণহত্যায় জনসাধারণকে উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগে এই দুই কর্মীকে সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরও একটি সূত্রের মতে, একই মামলায় আরও প্রায় ১০ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হতে পারে।

 

উল্লেখ্য, গত বছর ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্রসহ আল-হক ও আল-মেজান নামের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযোগ দায়ের করে। তাদের আইনজীবী ক্লেমেন্স বেকটার্ট বলেন, গণহত্যা আইনের আওতায় এটি প্রথম ধরনের তদন্ত।

 

এদিকে, গাজায় ইসরাইলি হামলায় ফ্রাঙ্কো–ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা এবং সেখানে অভিযানে অংশ নেওয়া দুই ফ্রাঙ্কো–ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগেও ফ্রান্সে পৃথক মামলা চলমান রয়েছে।