ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। স্থানীয় একটি মন্দিরের চত্বরে হাতজোড় করে বসে ছিলেন এক যুবক। তার কোলে রাখা ছিল এক গৃহবধূর রক্তমাখা কাটা মাথা। শুধু তা-ই নয়, ওই কাটা মাথা হাতে নিয়ে তাকে রাস্তায় ঘুরতেও দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত গৃহবধূর নাম সীমা সরকার ঘোষ (৩৫)। তাকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী রিন্টু ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গঙ্গারামপুরের ঘোষপাড়া এলাকার একটি মন্দিরে রিন্টু ঘোষকে প্রার্থনারত অবস্থায় দেখা যায়। তার কোলে ছিল সীমার কাটা মাথা। এ দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। রিন্টুকে আটক করে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সীমার কাকা রাজেশ প্রামাণিক জানান, রিন্টু আগে স্টেট ট্রান্সপোর্টের বাসে কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন। তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে রিন্টুর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে শুরু করে। পরে ব্যবসা শুরু করলেও একপর্যায়ে তা ছেড়ে দেন। এরপর নিরামিষভোজী হয়ে পড়েন এবং ধর্মীয় আচার ও তন্ত্রসাধনায় ঝুঁকে পড়েন।
পরিবারের দাবি, তন্ত্রসাধনার পথ অনুসরণ করতে গিয়েই স্ত্রীকে হত্যা করেছেন রিন্টু। এ ঘটনায় অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে পরিবার। পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত করছে। সীমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।