Image description

লোকসভা নির্বাচনের আগে ঘর গোছাতে তৎপর ইন্ডিয়া শিবির। ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী  লোকসভা নির্বাচন। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে শক্তিপ্রদর্শনের পর এ বার জোটের অন্দরের দূরত্ব কমিয়ে বিরোধী ঐক্যকে আরও মজবুত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টির অনুপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হয়েছেন বিরোধী নেতৃত্ব। কথা হচ্ছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গেও।

২০২৩ সালে ইন্ডিয়া জোটের সূচনালগ্নে ২৩টি রাজনৈতিক দল এক ছাতার তলায় এসেছিল। কিন্তু রবিবারের রামলীলা ময়দানের সমাবেশে উপস্থিত ছিল মাত্র ১৯টি দল। পুরনো শরিকদের অনুপস্থিতি বিরোধী ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক দূরত্ব এবং ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন জোটের অন্দরের সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।

তবে ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও আশাবাদী বিরোধী নেতৃত্ব। জোট সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই স্ট্যালিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। নিজেদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অবস্থান স্পষ্ট করতে আরও এক মাস সময় চেয়েছে ডিএমকে। স্ট্যালিনের বক্তব্য, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। ফলে ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব স্থায়ী হচ্ছে না বলেই মনে করছেন জোটের একাংশের নেতারা।

এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা। জোট সূত্রের খবর, ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হয়েছেন মমতা। প্রয়োজনে তাঁর তামিলনাড়ু সফরের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকে-কে ফের সক্রিয় ভাবে জোটের মঞ্চে ফিরিয়ে আনতে পারলে বিরোধী ঐক্যের বার্তা আরও জোরালো হবে।

অন্য দিকে, আম আদমি পার্টির সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্ব ঘোচানো নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। দুই দলের রাজনৈতিক বিরোধ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে একই মঞ্চে ফের একসঙ্গে আসার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

এদিকে জোটের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে ছাত্র সংগঠন আইসা এবং ককরোচ পার্টির সমর্থন। রবিবারের সমাবেশের আগে সিজেপি-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, অতীতে তাঁদের আটক করার ঘটনায় ভুল স্বীকার করে তৃণমূল নেত্রীর কাছে ক্ষমা চান সিজেপি নেতৃত্ব। জবাবে মমতা তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। বাংলার বাইরে গিয়েও তাঁদের আন্দোলন প্রভাব তৈরি করতে পেরেছে বলে প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে পূর্ণ শক্তি নিয়ে বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানান।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ছিল গত মাসে আন্দোলনে সাময়িক বিরতির পর বিরোধীদের প্রথম বড় মাপের রাজপথের কর্মসূচি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধীরা। সেই আন্দোলনকে সামনে রেখে রবিবারের সমাবেশে শক্তিপ্রদর্শন করলেও, জোটের পুরনো শরিকদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—এক দিকে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইকে জোরদার করা, অন্য দিকে জোটের অন্দরের দূরত্ব কমিয়ে ঐক্য বজায় রাখা। ডিএমকে-র সঙ্গে কথাবার্তা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ায় কতটা কার্যকর হয়, নজর থাকবে সে দিকেই।