মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে প্রতিদিন। একদিকে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জোর আলোচনা হোয়াইট হাউজে। একই সময়ে লোহিত সাগরে জ্বালানি পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চীনের।
বুধবার ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি । এতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে আটটি তেলবাহী জাহাজ ও ১০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের তেল বাণিজ্য থেকে আসা অর্থের প্রবাহ কমানো, যা ব্যবহৃত হয় তেহরানের অস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়নে।
এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তেজনা বেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় চাপে পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহও ।
আগেরদিনই ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজ। একটি জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে আলোচনা হয় ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা, মোজতবা খামেনির অবস্থান এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন পারমাণবিক স্থাপনার কার্যক্রম নিয়েও।অন্যদিকে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চীনা তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হুথিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছে বেইজিং। ছয়টি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের বন্দরসংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ার পর চীন নিশ্চয়তা চেয়েছিল নিরাপদ চলাচলের।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই হুথিদের বিধিনিষেধ ঘোষণার পর সৌদি আরব থেকে চীনের উদ্দেশেবাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করেছে অপরিশোধিত তেল বহনকারী অন্তত চারটি ট্যাংকার। প্রতিটি যাত্রার আগে পৃথকভাবে সমন্বয় করা হয় হুথিদের সঙ্গে। আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন এ ব্যবস্থার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল ইরানকেও।