ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত এক মাস পেরিয়ে আরও জটিল ও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এখন নতুন করে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা বাড়ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, তাদের যোদ্ধারা মার্কিন সেনাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সৈন্য পৌঁছানোর পর এ খবর প্রকাশ করলো ওয়াশিংটন। যদিও এর আগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন তাদের স্থল অভিযানের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়ানোর পরই তাদের আগের অবস্থান পরিবর্তনের কথা সামনে এলো। বিশ্লেষকরা মনে করেন ইরানে স্থল অভিযান পরিচালনা করা ট্রাম্পের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়েছে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করে নতুন শর্ত দিয়েছে তেহরান। দেশটি জ্বালানি অর্থনীতি এবং রাজনীতির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দখল কোনোভাবেই না ছাড়ার কথা জানিয়েছে। আর এতেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টার আড়ালে স্থল অভিযানেরই ছক তৈরি করছেন। সমরবিদরা বলছেন, ইরানে স্থল অভিযান চালানো কোনো সহজ বিষয় নয়। সেখানের ভূমি বন্ধুর। অর্থাৎ ইরানের ভূমি পুরোপুরি সমতল নয়। সেখানে তৃণভূমির বিপরীতে আছে মরুভূমি, সমতলের পাশাপাশি আছে পাহাড়। এ ছাড়া ভূগর্ভে যে সমরাস্ত্রের শহর রয়েছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একদম নিখুঁত কোনো তথ্যও নেই। এই প্রেক্ষাপটে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থল অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা: ইরানে স্থল অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। তবে কয়েক জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ইরানের সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদন কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, খার্গ দ্বীপে অবস্থানরত সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ। দ্বীপটি দখল করা কঠিন নয়, কিন্তু সেখানে আমাদের লোকদের মোতায়েন রাখার পর তাদের রক্ষা করাই মূল কঠিন কাজ। খার্গ দ্বীপের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে ঝটিকা অভিযানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নৌ রুটটিতে আন্তর্জাতিক যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সেখানে রাখা সমরাস্ত্র ধ্বংস করাই এই ঝটিকা অভিযানের লক্ষ্য। এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরান এই জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ইরানের দ্বীপগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই স্থল অভিযান শেষ করতে কয়েক মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে অন্য একটি সূত্রের মতে, এতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। এসব প্রস্তাবনার সঙ্গে পরিচিত একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, স্থল অভিযানের এই পরিকল্পনা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বিস্তারিত। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এর প্রতিটি দিক নিয়ে যুদ্ধ-মহড়া চালানো হয়েছে। এটি কোনো শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা নয়।
বেশির ভাগ আমেরিকান স্থল অভিযানের বিপক্ষে: বেশির ভাগ আমেরিকান ইরানের মাটিতে সৈন্য নামানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টারের যৌথ জরিপের তথ্য মতে, ইরানে স্থল সৈন্য মোতায়েনের বিপক্ষে মত দিয়েছেন ৬২ শতাংশ আমেরিকান। পক্ষান্তরে সৈন্য মোতায়েনের পক্ষে মত দিয়েছে মাত্র ১২ শতাংশ।
গত সপ্তাহে এক্সিওস এর এক রিপোর্টেও স্থল অভিযানের খবর দেয়া হয়। সংবাদমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে স্থল বাহিনীর পাশাপাশি বিশাল বোমা হামলাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ২২০০ মার্কিন নাবিক এবং মেরিন সৈন্যের সমন্বয়ে গঠিত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন। ইরাকে একটি বিমান দুর্ঘটনায় ছয়জন, কুয়েতের একটি বন্দরে ড্রোন হামলায় ছয়জন এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় একজন নিহত হন। এ ছাড়া এই অঞ্চলে আরও ৩০০ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান মোকাবিলায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। বলেছেন, ইরানের যোদ্ধারা মার্কিন সৈন্যদের উচিত শাস্তি দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। গালিবাফের ভাষায়, শত্রু (যুক্তরাষ্ট্র) প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা দিচ্ছে, কিন্তু গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। ইরানের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছে এবং তাদের ‘উচিত শাস্তি’ দিতে প্রস্তুত। গালিবাফ ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটি এখন একটি বড় বৈশ্বিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দিতে সক্ষম এবং দেশটির ওপর হামলার জন্য ওয়াশিংটনকে অনুতপ্ত করতে পারবে। গালিবাফ অতীতে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার, পুলিশ প্রধান এবং তেহরানের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট হুতি বিদ্রোহীরা: গত ৩০ দিনে সংঘাত শুধু ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শনিবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরাইলের দিকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। গাজায় ইসরাইলি হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরাকেও বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইল এখন একসঙ্গে তিনটি ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে- ইরান, লেবানন এবং ইয়েমেন।ইরানে ব্যাপক হামলা: রোববার সকালে তেহরানে শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বিভিন্ন এলাকা। আবাসিক এলাকায় হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। রাজধানীর উত্তর ও পশ্চিম অংশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বুশেহর ও খুজেস্তান প্রদেশে হামলায় একটি পরিবার নিহত হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্টের বাসভবনেও হামলা চালিয়েছে।হিজবুল্লাহ-ইরানের যৌথ হামলা: ইসরাইলে ব্যাপক যৌথ হামলা চালিয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবর, গতকাল ইসরাইলের ১০০টির বেশি শহরে সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ’র রকেট হামলা চালানোর সময় ইরান থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ফলে একসঙ্গে ইসরাইলের শতাধিক শহরে সাইরেন বেজে উঠে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাইফা উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলে হামলার পাশাপাশি ইরান একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং একটি যুদ্ধবিমানেও আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া হাইফা শহরের একটি সামরিক স্থাপনা এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রে হামলার কথাও জানিয়েছে তেহরান।পরমাণু চুক্তি ত্যাগের হুঁশিয়ারি: ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোয় ক্ষুব্ধ তেহরান। আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, ইরানের রাজনৈতিক মহলে এখন পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ও জ্বালানি সংকট: ইরানের হামলার জবাবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। আবুধাবিতে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। বাহরাইনেও একটি শিল্প কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে হরমুজ প্রণালি কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ছে। তবে পাকিস্তানের পতাকাবাহী কিছু জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান, যা সংকট কিছুটা লাঘবের ইঙ্গিত দেয়।কূটনৈতিক তৎপরতা: যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকে যুদ্ধ থামানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশ জুড়ে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধবিরোধী অবস্থান জানাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এক মাস পেরিয়েও সংঘাতের কোনো সমাধান না হওয়া এবং স্থল অভিযানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ অবস্থার দিকে এগোচ্ছে।ইরানে নিহত বেড়ে ২০৭৬, আহত সাড়ে ২৬ হাজার: ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ২১৬ শিশুসহ মোট ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন সাড়ে ২৬ হাজার মানুষ। আহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি শিশু। এ ছাড়া হামলায় ৩৩৬টি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। বর্তমান বাস্তবতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত একটি নতুন মোড় নিয়েছে। আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি এখন স্থল যুদ্ধের আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা, আঞ্চলিক জড়িয়ে পড়া এবং জ্বালানি সংকট- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি আরও বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।