Image description

সরকার জনগণকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকস্মিকতায় তারা প্রথমে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। তখন তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা মিডিয়ার সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, ‘এই মাসুম মাসুম বাচ্চারাই আজ আমাদের মুক্ত করেছে।’ কিন্তু ৫ আগস্ট রাত পেরোতেই তাদের অবস্থান পাল্টাতে শুরু করে।

 

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবীর মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা: উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর আয়োজন করে।

 

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিএনপি তখন উপলব্ধি করে যে, এই আন্দোলনে তাদের কোনো কৃতিত্ব নেই। ছাত্র-জনতার হাতে সেই কৃতিত্ব চলে যাচ্ছে। সে কারণেই সেদিনের পর থেকে ধীরে ধীরে তারা তাদের অবস্থান বদলাতে থাকে। আজ এসে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে।

 

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্যতার ইতিহাস রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কাঁধে কাঁধ রেখে আন্দোলন করেছি। প্রতিটি আন্দোলনে তাদের সঙ্গে থেকেছি। একসঙ্গে নির্বাচন করেছি। বিগত নির্বাচনেও একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত একসঙ্গে নির্বাচন করার চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি থেকে আমরা বিএনপির সঙ্গে না গিয়ে বিপরীত অবস্থান করলাম, এটা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট।

 

বিএনপি থেকে আলাদা হওয়ার কারণ নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এত মানুষের রক্ত, কষ্ট, তাদের পঙ্গুত্ব, অসহায়ত্ব বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এই চিন্তা, এই চেতনা থেকেই আমরা তাদের থেকে আলাদা হয়েছি।

 

তিনি বলেন, যখনই দেখলাম, ‘বিএনপি গণভোট আগে হোক’-এর পক্ষে সম্মত নয়, তখনই আমাদের মনে সন্দেহ জেগেছিল, বিএনপি নির্বাচনের পরে কোনো দুরভিসন্ধি আঁটবে। আজ সেই সন্দেহ বাস্তবে পরিণত হলো।

 

বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করার কারণে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কী পরিণতি হয়েছিল, সে পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন। আপনারা ৬৮% মানুষের ভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। মনে রাখবেন, জনগণের বিপক্ষে গেলে জনগণ আবার পিআর পদ্ধতির জাতীয় নির্বাচনের জন্য মাঠে নামবে।

 

বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখালে বাঙালি রাজপথ দেখাবে বলে তিনি বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দেন।

 

দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশীর প্রমুখ।