Image description

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকার গঠনের পর এখন বসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। আগামী ১২ মার্চ এই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

 

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পরদিনই অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আইন অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে হয় সংসদ অধিবেশন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ প্রথম অধিবেশন থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ বছর। সে হিসেবে আগামী ২০৩১ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ থাকবে এই সংসদের।

গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকারি দলীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রীতি অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। ওই অধিবেশনেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদের স্পিকারও নির্বাচিত হবে। একই দিন ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, এক সংসদের পর পরবর্তী সংসদ শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের মেয়াদ থাকে। বিদায়ী সংসদের স্পিকারই নতুন সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। নতুন সংসদে স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার পরই তার দায়িত্ব শেষ হবে।

২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন অভ্যুত্থানের পরপরই। আর ডেপুটি স্পিকার যিনি ছিলেন তিনিও আছেন কারাগারে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা।

কিন্তু তারা না থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তিই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন অথবা সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচিত করে সাময়িকভাবে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

যেটিকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা বলছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ এবারে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ৭৬ শতাংশই নতুন। যে কারণে এই সংসদকে একটি ব্যতিক্রমী সংসদ বলেও মনে করছেন সংসদ গবেষকরা।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন যে সব কাজ করে থাকে তা পরিচালিত হয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে।

বাংলাদেশের সংসদ এবার কেন ব্যতিক্রমী সংসদ কিংবা এই সংসদ সাধারণত কীভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে কিংবা আইন পাশ করা হয় কীভাবে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।

প্রথম অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত ২৯৬ জন গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই সংসদে সরকার দল, বিরোধী দলসহ যে সব দল নির্বাচনে জয় পেয়েছে তার সবগুলো দলীয় প্রধানরাই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়াও সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছে তাদের ২৯৬ জনের মধ্যে ২২৭জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

যে কারণে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সংসদের কার্যপ্রণালি, বিধিবিধান, স্থায়ী কমিটির কাজ, আইন প্রণয়নের জটিল প্রক্রিয়াগুলো বুঝতেও কিছুটা সময় লাগবে আগামী সংসদের।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেন। এ নিয়ে তার বইও প্রকাশিত হয়েছে।

মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘প্রথমত এবারের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত তাদের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রথমবারের মতো সংসদে। তাদের অনেকেরই কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই। যে কারণে এবারে সংসদে কিছু কিছু ব্যতিক্রমী বিষয়ও দেখা যেতে পারে’।

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের শুরুতে বিদায়ী স্পিকার বা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন।

প্রথা অনুযায়ী কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে বৈঠকের শুরু হয়। উদ্বোধনী বৈঠকের কার্যসূচির মধ্যেই শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়। ওই একই অধিবেশনে বিদায়ী স্পিকারের স্বাগত ভাষণ অর্ন্তভুক্ত থাকে।

২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তখন থেকেই আত্নগোপনে আছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেখান থেকেই চব্বিশের সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তিনি। পরে তার পদত্যাগপত্র কার্যকরও হয়েছে।

এবার রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, এমনটাও ধারণা করছেন কেউ কেউ।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন তার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ: কাঠামো, কার্যপদ্ধতি ও চর্চা বইয়ে সংসদ কিভাবে পরিচালিত হয় তার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন।

সংসদের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের শুরুতে বিদায়ী স্পিকার বা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন।

প্রথা অনুযায়ী কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে বৈঠকের শুরু হয়। উদ্বোধনী বৈঠকের কার্যসূচির মধ্যেই শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়। ওই একই অধিবেশনে বিদায়ী স্পিকারের স্বাগত ভাষণ অর্ন্তভুক্ত থাকে।

এবার রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এরপরই সংসদের নতুন স্পিকার নির্বাচিত হবে।

নিয়ম অনুযায়ী সংসদের সরকারি দল থেকেই স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে থাকে। তবে এবার জুলাই সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়া হবে। যে কারণে প্রথম সংসদ ডেপুটি স্পিকার পদের নির্বাচন নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও রয়েছে।

যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি স্পিকার পদে কাকে নির্বাচন করবে, সেই বিষয়ে বুধবার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দলটি।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই দুই পদে নির্বাচনের পরই কিছু সময়ের জন্য সাধারণত ৩০ মিনিটের একটা বিরতি হয়। এই বিরতির মধ্যে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।

বিরতির মাঝে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পর সংসদের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়। সেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী নবনির্বাচিত স্পিকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। পরে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী সভাপতিমন্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের পর আবারো একটি বিরতি দেওয়া হয়।

বিরতির ও শপথের পর আবারো বৈঠক শুরু হয়। সেখানে রেওয়াজ অনুযায়ী নবনির্বাচিত স্পিকার স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘অনেক সময় একই দিনে স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে থাকে। তাদের দুইজনকেই একই দিনে একই সাথে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি’।

তবে এবার একই দিনে ডেপুটি স্পিকারের শপথ নাও হতে পারে বলেও মনে করছেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এই শিক্ষক।

গুরুত্বপূর্ণ অংশ; রাষ্ট্রপতির ভাষণ

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতির ভাষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

স্পিকার/ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণের অধিবেশন শুরু হবে।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন তার বইয়ে লিখেছন, ‘প্রথম দিনেই বিরতির পর রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করলে সংসদের স্পিকার ও সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং একই সময়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত শেষে স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি উভয়ে আসন গ্রহণ করেন’।

উভয়ের আসনগ্রহণ শেষে সংবিধানের ৭৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আহবান জানান।

প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যে ভাষণ দেন সেই ভাষণ হয় লিখিত। আগে থেকেই সেই ভাষণ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়।

রাষ্ট্রপতির এই ভাষণে যেমন নতুন সরকারের বক্তব্য থাকে। তেমনি বিগত শাসনামলের বিস্তারিত বিষয়বস্তু যুক্ত থাকে বলে জানান সংসদ বিশেষজ্ঞরা।

অধ্যাপক মহিউদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এই বক্তব্য মূলত বিগত শাসনমালের নানা বিষয় যেমন যুক্ত থাকে তেমনি নতুন সরকার গঠন এবং এই সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়’।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে পুনরায় জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়, তখন স্পিকার এবং সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার পর সংসদের বৈঠক মূলতবি ঘোষণা করা হয় এবং এর মধ্য দিয়ে প্রথম বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের দুইটি কপি থাকে। একটি কপি থাকে লিখিত। যেই কপিটি প্রত্যেক সংসদ সদস্যের কাছে আগেই পৌঁছে দেওয়া আর। আর সংক্ষিপ্ত ভাষণের অংশটুকু প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য আকারে দেন রাষ্ট্রপতি।

সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে ওইদিনের মতো অধিবেশন শেষ হয়ে যায় বেশিরভাগ সময়। তবে ভাষণের দিন সাধারণত কোন ধরনের প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকে না’।

ওই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়। এর ওপর জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা নানা আলোচনা করে থাকেন বলেও জানান সংসদ গবেষকরা।

সংসদ পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ

বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগে জাতীয় সংসদের গঠন কার্যকাল, সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, অধিবেশন অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রপতি ও সংসদের বিশেষ অধিকারের বিষয়গুলো রয়েছে।

বাংলাদেশের সংবিধান কার্যপ্রণালি বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি, স্পিকারের রুলিং ও রীতি রেওয়াজ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে।

বিধি মোতাবেক কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সংসদ নেতার সাথে পরামর্শক্রমে স্পিকার যে ধরনের নির্দেশনা প্রদান করেন, সেই অনুসারে সংসদের প্রতিদিনের বৈঠকের জন্য দিনের কার্যসূচি বা অর্ডার অব দ্যা ডে তৈরি করা হয়।

দিনের কার্যতালিকা স্পিকার কর্তৃক অনুমোদের পর জাতীয় সংসদের ওয়েব সাইটে তা প্রকাশ করা হয়। সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে তা প্রত্যেক সংসদ সদস্যের কাছে কার্যতালিকার প্রতিলিপি সরবারহ করা হয়।

দিনের কার্যতালিকায় যে সব বিষয় অর্ন্তভূক্ত থাকে শুধুমাত্র সেসব বিষয়ই সম্পাদন করা যায়। তবে স্পিকারের অনুমোদন পেলে নতুন কোন কাজ ‘সম্পূরক কার্যসূচি’ জারি করার রীতিও প্রচলিত রয়েছে।

অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন লিখিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ: কাঠামো, কার্যপদ্ধতি ও চর্চা বইয়ে সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিভাবে হয় সেই পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিধি অনুযায়ী স্পিকার কর্তৃক সংসদে পেশকৃত কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং সবশেষে সংসদ সদস্যদের ভোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সংসদে উত্থাপিত কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে বিতর্ক শেষ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম উপায় হলো কণ্ঠভোট। কণ্ঠভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ভোট গণনা নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে সেক্ষেত্রে বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।

কোনো প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণের জন্য কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে এ বিষয়ে স্পিকার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

কোনো প্রস্তাব সম্পর্কে কণ্ঠভোট গ্রহণ করা হলে যারা প্রস্তাবটির পক্ষে থাকেন তারা ‘হ্যাঁ এবং যারা বিপক্ষে থাকেন তারা ‘না’ বলে হাত উত্তোলন করেন। গণনা শেষে স্পিকার হ্যাঁ-পক্ষ অথবা না-পক্ষ জয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা করেন।

প্রস্তাব সম্পর্কিত স্পিকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো সদস্য আপত্তি না করলে স্পিকার পুনরায় দুইবার তাঁর ঘোষণা উচ্চারণ করেন, আর যদি আপত্তি করা হয় তবে স্পিকার ‘বিভক্তি ভোট’ কথাটি উচ্চারণ করেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা