কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম বিমানে ৪ ‘ভুয়া’ পাইলট!। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানে চড়ে আকাশে উড়ছেন। হঠাৎ আপনি জানতে পারলেন, যে পাইলট বিমানটি চালাচ্ছেন, তাঁকে নিয়ে সমস্যা আছে। অন্তত তাঁর লাইসেন্স নিয়ে সমস্যা আছে; তিনি ভুয়া পাইলটও হতে পারেন। ভাবুন তো, আপনার মনের অবস্থা তখন কেমন হবে?
এই ভয়ানক পরিস্থিতি কিন্তু শুধু আর ভাবনার মধ্যে নেই। বাস্তবেই এমন ঘটনার সন্ধান মিলেছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে।
একজন-দুজন নয়, বিমানের সাতজন পাইলটকে নিয়ে যোগ্যতা-জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর বিমান কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তে অন্তত চারজন পাইলটের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের আলামত পায় ওই কমিটি।
কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ আনা হয়, ওই চার পাইলটের মধ্যে কেউ প্রয়োজনীয় উড়ানঘণ্টা পূরণ না করেই কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) পেয়েছেন; কেউ লগবুকে একই উড়ান সময় দুই দফায় দেখিয়ে ঘণ্টা বাড়িয়েছেন; আবার কারো ক্ষেত্রে পাওয়া গেছে পরস্পর সাংঘর্ষিক উড়ান সনদ।
বিমানের সেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের নথিটি কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। প্রতিবেদনে আশঙ্কা করে বলা হয়েছে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভাবমূর্তি নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এভিয়েশন সেফটি কমপ্লায়েন্সও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এতে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) কিংবা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সির (ইএএসএ) মতো সংস্থার নজরদারি, এমনকি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
পাঁচ পৃষ্ঠার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে যে সাতজন পাইলটের নাম আসে, তাঁরা হলেন—ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান আখন্দ, ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদ, ক্যাপ্টেন আনিস, ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাব, ক্যাপ্টেন নুরউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন ইউসুফ মাহমুদ ও ক্যাপ্টেন মুস্তাফিজুর রহমান।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে নুরউদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান এখন বিমানের কর্মী নন। মূলত চারজনকে ঘিরেই অভিযোগ গুরুতর। এই পাইলটদের লাইসেন্সের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁদের বিমান চালানো থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করা হলেও রহস্যময় কারণে তা মানা হয়নি।
এতে করে সেই ১৯৯৩ সালে ‘ভুয়া’ লাইসেন্স পাওয়া পাইলট হাজার হাজার যাত্রীর প্রাণ হাতে নিয়ে এখন পর্যন্ত বিমান দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আকাশে।
বছরের পর বছর এভাবেই চলে আসছে নির্বিঘ্নে। বছরখানেক আগে একটা উড়োমেইলের সূত্র ধরে প্রাথমিক তদন্তেই এ রকম শিউরে ওঠার মতো তথ্য মিললেও তদন্তে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ এ টি এম নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, পাইলট রিক্রুটমেন্ট করার সময় বিমান কর্তৃপক্ষের অবশ্যই লাইসেন্স ও লগবুক দেখতে হয়। জটিলতা থাকলে সেটি পয়েন্ট আউট করে সিভিল এভিয়েশনকে প্রশ্ন করা উচিত—তাঁদের উড়ানঘণ্টা স্কোর ও লাইসেন্স কিভাবে হলো? এই চারজনের ক্ষেত্রে যদি যাচাই না হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই বলা যায়, বিমান এটি এড়িয়ে গেছে।
কাঁপন ধরানো ই-মেইলে শুরু: ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। ওই দিন বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ই-মেইলে একটি বার্তা আসে। প্রেরক পরিচয়হীন, কিন্তু অভিযোগগুলো ছিল সুনির্দিষ্ট, স্পর্শকাতর এবং বিস্ফোরক।
ই-মেইলে বলা হয়, কিছু ফ্লাইট অপারেশন্স ইন্সপেক্টরের বৈধ লাইসেন্স বা শারীরিক সক্ষমতা নেই। কেউ কেউ ফ্লাইং কারেন্সি বজায় না রেখেও পাইলট যাচাই ও অনুমোদনের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। ভুয়া, অসম্পূর্ণ বা অপর্যাপ্ত উড়ানঘণ্টার ভিত্তিতে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। এটিপিএল যোগ্যতার ক্ষেত্রে পি-১ ও পি-২ কলামে একই উড়ানসময় দ্বৈতভাবে দেখিয়ে উড়ানঘণ্টা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৩৫০ ঘণ্টার অমিল শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।
সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেছেন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী এমন অনিয়ম কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি ফ্লাইট সেফটির জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি। এ কারণেই ই-মেইলটি উপেক্ষা করা যায়নি।
যেভাবে এগিয়েছে অভিযোগ : আমাদের হাতে আসা নথি বলছে, গত ৯ জানুয়ারি রাত ৮টা ৫৪ মিনিটে ফ্লাইট সেফটি বিভাগে অভিযোগসংবলিত একটি ই-মেইল আসে। সেখানে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্রও সংযুক্ত ছিল। এরপর ১১ জানুয়ারি সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে মেইলটি ফরোয়ার্ড করা হয় চিফ অব ফ্লাইট সেফটি এনামুল হক তালুকদারের কাছে। ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে অভিযোগটি পাঠানো হয় বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নওসাদ হোসেনের কাছে। জরুরি ভিত্তিতে জানতে চাওয়া হয়, এ ধরনের ঘটনা অতীতে ঘটেছিল কি না; আর ঘটলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ১৫ জানুয়ারি দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে জবাবে জানানো হয়, তদন্ত শাখার রেকর্ড অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনার পূর্বতথ্য পাওয়া যায়নি।
কিন্তু আরেক নথিতে পরে উঠে আসে, ফার্স্ট অফিসার আল মেহেদী হাসান ইসলাম ও সাদিয়া আহমেদের শিক্ষাগত সনদ জাল থাকার ঘটনা এর আগেই প্রতিষ্ঠানের নজরে এসেছিল।
অবশেষে ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টা ৩৬ মিনিটে নথিটি পাঠানো হয় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইওর কাছে। সেখান থেকে জরুরিভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ আসে।
কমিটি গঠনেই এক মাস: অভিযোগের সূত্রপাত ৩০ ডিসেম্বর হলেও তদন্ত কমিটি গঠন হয় ২৮ জানুয়ারি। ওই দিন প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মো. নওসাদ হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে (নম্বর ১৪/২০২৬) চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয় মহাব্যবস্থাপককে (করপোরেট প্ল্যানিং)। সদস্য করা হয় ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি) ও উপব্যবস্থাপককে (অ্যাকাউন্টস-সিস্টেম অডিট, ফেয়ার অ্যান্ড ফান্ড অডিট); আর টেকনিক্যাল অ্যান্ড এফওডিসিসি বিভাগের উপব্যবস্থাপক (এওসি) সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান।
কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়, অভিযুক্ত পাইলটদের কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) ইস্যু, রেটিং প্রদান, উড্ডয়ন ঘণ্টায় গরমিল, প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন নথি এবং পুরো তদারকি কাঠামোয় কোনো অনিয়ম, জালিয়াতি বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক সুপারিশও দিতে বলা হয়। সময় দেওয়া হয় তিন কর্মদিবস।
প্রাথমিক তদন্তেই বিস্ফোরক তথ্য: তদন্ত শেষে ৩ ফেব্রুয়ারি পাঁচ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করে ওই কমিটি। ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের জাল পাইলট লাইসেন্সের প্রাথমিক প্রতিবেদন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে ওই চারজন সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। আর সেই প্রতিবেদনেই একের পর এক উঠে এসেছে এমন সব অসংগতি, যা বিমানের ককপিটের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক তদারকির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাব : দুই সনদ দুই রকম : তদন্তে বেশি অসংগতি ধরা পড়েছে ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবের ক্ষেত্রে। কমিটির ভাষায়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগই সবচেয়ে বিস্তৃত ও দলিলসমৃদ্ধ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ১৯৯৩ সালে সিপিএল পান। কিন্তু তাঁর উড়ান প্রশিক্ষণ ও ফ্লাইং রেকর্ড ঘিরে এমন সব নথি পাওয়া গেছে, যেখানে একটির সঙ্গে অন্যটি মিলছে না।
১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল ইস্যুকৃত সনদে দেখা যায়, সিপিএল নেওয়ার সময় তাঁর একক উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ৩৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। এর মধ্যে তিন ঘণ্টা ৩০ মিনিট হেলিকপ্টারে উড্ডয়ন, বাকিটা তিনি দ্বিতীয় পাইলট হিসেবে উড়েছিলেন। এ বিষয়টি বিএএফ রেকর্ডে ডুয়াল আওয়ার্স হিসেবে দেখানো রয়েছে।
মাহতাবের নামে ১৯৯২ সালের ১০ জুন আরেকটি সনদ ইস্যু হয় একটি বিমান একাডেমির নামে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি ১৫৫ ঘণ্টা পাইলট ইন কমান্ড (সলো) উড়ান সম্পন্ন করেছেন।
দুটি সনদ ইস্যুর মধ্যে সময়ের ফারাক মাত্র ৫৫ দিন। অথচ দুই সরকারি সনদের একটিতে পৌনে ৩৪ ঘণ্টা, আরেকটিতে ১৫৫ ঘণ্টা—এই বিপুল পার্থক্য বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, ক্যাপ্টেন মাহতাব বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজের প্রধান বৈমানিক, প্রশিক্ষক পাইলট এবং বিমানের একমাত্র বৈমানিক, যিনি একই সঙ্গে বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ চালানোর অনুমতিপ্রাপ্ত। তিনি গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এয়ারলাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৫-২৬ সেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বিমানপাড়ায়।
অভিযোগের বিষয়ে ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবের কাছে জানতে চাইলে প্রথমেই তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তারপর ক্যাপ্টেন মাহতাব বলেন, ‘বিমানে একটি সিন্ডিকেট আছে, যে কারণে আমি বিমান ও দেশের জন্য কথা বলতে গিয়ে তাদের কাছে অপরাধী হয়ে গেছি। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বিমানকে বাপ-দাদার সম্পত্তি বানিয়ে রেখেছে একটি গ্রুপ। তারা চায় বিমানে শুধু তাদের পরিবারের লোকজন আসুক; বাইরে থেকে কেউ না আসুক। সব সময় চেয়েছি লেভেল প্লেইন ফিল্ড হোক, বড় হোক এয়ার লাইনসটা। এ জন্যই আমি অপরাধী।’
ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান : ৯৫ ঘণ্টার ঘাটতি : প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান আখন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেও বিমানের জানা ছিল। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও পাঠায়। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
অভিযোগটি হলো, প্রয়োজনীয় ২৫০ ঘণ্টা উড়ান অভিজ্ঞতার পরিবর্তে তিনি মাত্র ১৫৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট লগ করেই লাইসেন্স পেয়েছেন। এটি নিছক কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং লাইসেন্স ইস্যুর প্রাথমিক শর্ত পূরণ না করেই সিপিএল পাওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম।
ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস : একই উড়ানঘণ্টা দুই দফায়
ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরো বেশি নাটকীয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর লগবুকে একই উড়ান সময় পি-১ ও পি-২—দুই কলামেই এন্ট্রি করা হয়েছে। সাধারণত এই দুই কলামের ব্যবহার আলাদা; ফলে একই সময় দুই জায়গায় দেখানো মানে ঘণ্টা হিসাবকে ফুলিয়ে দেখানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তদন্তকারীরা প্রতিবেদনে বলছেন, এটি সাধারণ ভুল, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ফ্লায়িং আওয়ার বাড়ানোর চেষ্টা, তা যাচাই করা জরুরি।
ক্যাপ্টেন আনিস : ২০০ ঘণ্টার আগেই সিপিএল : ক্যাপ্টেন আনিসের ক্ষেত্রে তদন্তে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুতর অসংগতি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর লগবুক কপির ভিত্তিতে দেখা গেছে, তাঁর উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল ১৬২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। অথচ সে সময় সিপিএল পেতে প্রয়োজন ছিল কমপক্ষে ২০০ ঘণ্টা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি প্রয়োজনীয় ২০০ ঘণ্টা পূরণের আগেই সিপিএল পেয়েছেন? নাকি পরে সেই ঘণ্টা পূরণ করে লাইসেন্স ইস্যু বৈধ করা হয়েছে? তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানে চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি যে লগবুক জমা দিয়েছিলেন এবং সিএএবির রেকর্ড—দুটি মিলিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার কথা। এই লাইসেন্স নিয়ম মেনে ইস্যু হয়েছিল, নাকি হয়নি, বিষয়টি অধিকতর তদন্তে উঠে আসতে পারে।
অভিযুক্ত পাইলটদের সরানোর সুপারিশ : প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটি বলেছে, বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য আরো ১৫ দিন সময় বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাপ্টেন ইউসুফ মাহমুদ ছাড়া অন্য অভিযুক্ত পাইলটদের সাময়িকভাবে ফ্লাইটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার সুপারিশ করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা যায় এবং বিমানের সম্ভাব্য আইনি ও বীমা ঝুঁকি এড়ানো যায়।
তদন্ত কমিটির মতে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এটি সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি, যাতে সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং দেশের বিমান চলাচল খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা অক্ষুণ্ন রাখা যায়।
তদন্তের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট : সিভিল এভিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত চলাকালে তাঁকে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিরত তো রাখা হয়ইনি; বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে বিমান উড়িয়েছেন তাঁরা।
নথি অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে জেদ্দাগামী ফ্লাইট (নম্বর-বিজি৩৩৫) পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন মাহতাব। একই দিন দুপুরে ঢাকা থেকে কাঠমাণ্ডুগামী ফ্লাইট (বিজি৩৭৩) পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান। ২৬ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরগামী ফ্লাইট (বিজি৩৮৬) পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন ইউসুফ। ওই দিন মাস্কাট থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইট (বিজি৭২২) পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস।
অন্য তারিখের নথিতেও দেখা যায়, অভিযোগ ওঠার পরও তাঁদের কেউ লন্ডন, কেউ গুয়াংজু, কেউ সিঙ্গাপুর, কেউ কুয়ালালামপুর রুটে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া অভ্যনন্তরীণ রুটেও বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করেন তদন্তাধীন অভিযুক্ত পাইলটরা।
প্রশ্ন নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতায় : তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলেছে, সিপিএল হলো একজন বাণিজ্যিক পাইলটের পেশাগত ভিত্তি। এই লাইসেন্স বৈধ না হলে পরবর্তী সব রেটিং, উন্নীতকরণ এমনকি উড়ান ক্যারিয়ারও প্রশ্নের মুখে পড়ে। অর্থাৎ এখানে কোনো একটি কাগজে ভুল টাইপ বা কোনো হিসাব-নিকাশের ছোটখাটো গরমিলের প্রশ্ন নয়, এটি একজন পাইলটের পেশাগত বৈধতার ভিত্তিমূল নিয়েই প্রশ্ন।
এ কারণেই প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক ঝুঁকির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিএও বা ইএএসএর মতো সংস্থাগুলো যদি মনে করে বাংলাদেশের লাইসেন্সিং ও তদারকি কাঠামোতে গুরুতর দুর্বলতা আছে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক রুট অনুমোদন, তদারকি অডিট, কোড-শেয়ার, ইনস্যুরেন্স রিস্ক এবং বিদেশি এয়ারপোর্ট অপারেশন—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকতর তদন্তে নথি যাচাইয়ের আদেশ : এই প্রাথমিক প্রতিবেদনের পর আরো গভীর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তর থেকে জারি করা এক আদেশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পাইলটদের লাইসেন্স ফাইল, লগবুক, প্রশিক্ষণ সনদ, পরীক্ষার ফলাফল ও অনুমোদন নথি যাচাই করে লাইসেন্সের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. হুমায়রা সুলতানা এই আদেশে সই করেন।
সেই আদেশে ক্যাপ্টেন আবদুর রহমান আখন্দ, ফারিয়েল বিলকিস আহমেদ, আনিস ও বাসিত মাহতাবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নতুন করে উল্লেখ করা হয়।
আগেও ভুয়া সনদের লাইসেন্স বাতিল : ২০২২ সালের ২০ জুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে একটি চিঠি দেয় বেবিচক। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আল মেহেদী ইসলাম নামক পাইলটের দাখিল করা সনদটির (ইস্যু নম্বর ২৬/০৯/এফআই/৭৭) অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি বেবিচকের কোনো রেকর্ডে। অথচ এই সনদ দেখিয়েই তিনি পাইলট লাইসেন্সের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। সেটিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সনদ’ হিসেবে ঘোষণা দেয় বেবিচক।
এই তথ্য সামনে আসার পর বিমান কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়। আল মেহেদী ইসলামের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করা হয়। উদ্যোগ নেওয়া হয় প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয়ের অর্থ আদায়ের।
আইনে শাস্তি কী : বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৭-এর ২৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আইন, বিধি, এএনও কিংবা লাইসেন্স/পারমিটের কোনো শর্ত লঙ্ঘন অপরাধ। এর শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।
একই আইনের ২৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স, সনদ বা পারমিট জাল করলে বা জাল করার চেষ্টা করলে সেটিও অপরাধ—এ ক্ষেত্রেও শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অথবা এক কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।
কথা বলতে নারাজ তদন্ত কমিটি : তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল দুপুর সোয়া ১টায় বলাকা ভবনে গেলে তাঁরা কেউ কথা বলতে রাজি হননি। টানা দুই ঘণ্টা সেখানে থেকে বহু চেষ্টা করেও তাঁদের মুখ খোলানো যায়নি। এরপর সন্ধ্যায় তদন্ত কমিটির সদস্য বিমানের ফ্লাইট সেফটি বিভাগের উপপ্রধান ক্যাপ্টেন ইন্তেখাব হোসাইনকে ফোন করলে তিনিও এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারেন বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা।
অবশেষে ভাষ্য... : সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘পাইলটদের লাইসেন্স দিয়ে থাকে সিভিল এভিয়েশন। এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। তাদের লাইসেন্সের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে বিমানের এমডি সিভিল এভিয়েশনে চিঠি দিয়েছেন। তবে এখনো কোনো উত্তর আসেনি।’
৩ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ‘ওই প্রতিবেদনে সব বিষয় পরিষ্কার হয়নি। যাঁরা তদন্ত করেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন। তাই এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।’
বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের তত্কালীন পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নওসাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে অভিযোগ পাওয়ার পর সেফটি ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাদের প্রশাসনে পাঠাই। তখন এমডি ও সিইও মহোদয়ের অনুমোদনক্রমে একটি প্রাথমিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং হিসেবে কমিটি করা হয়েছিল এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে তিন দিন সময় দিই। তখন তারা একটা প্রতিবেদন তৈরি করে। এই কমিটি চূড়ান্তভাবে কাউকে দায়ী করেনি। কমিটি বলেছিল, তারা কিছু জিনিস পেয়েছে। আরো সময় চেয়েছিল তারা। পরে আরো সময় দেওয়া হয় এবং চূড়ান্তভাবে সিভিল এভিয়েশনে পত্র বিমান থেকে লেখা হয়। এমডি মহোদয় মনে করেছেন যে তাঁদের গ্রাউন্ডেড রাখার দরকার নেই, তাই সেটা করা হয়নি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. হুমায়রা সুলতানাকে গত রাতে একাধিবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই সার্বিক বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ওদিকে অনেক চেষ্টা করেও গতকাল পাইলট নিয়োগকারী সংস্থা বেবিচকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আগের দিন গণমাধ্যমকে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, যে লাইসেন্সগুলো নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রথম আলো
‘জ্বালানি তেল আমদানির উৎস বাড়াতে চায় সরকার’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না বলে মনে করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি ব্যাহত হতে পারে, পিছিয়ে যেতে পারে জাহাজ আসার সময়। কেউ কেউ সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে চাহিদামতো জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে চুক্তির বাইরে নতুন উৎস খুঁজছে সরকার। ভারত থেকেও বাড়তি আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের সূত্র বলছে, জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি কেনার চুক্তি করা আছে। তবে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহকারীরা তেল পরিশোধন করতে সংকটে পড়বে। সে ক্ষেত্রে আগামী মে মাসে তারা চুক্তি অনুসারে তেল সরবরাহে ব্যর্থ হতে পারে। তাই সরকারি পর্যায়ে জিটুজি বা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বা সরাসরি প্রক্রিয়ায় তেল কেনার চিন্তা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেল আমদানির কাজটি করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজ আসে জ্বালানি তেল নিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি তেল আসছে না। এ মাসে জ্বালানি তেল নিয়ে মোট ১৬টি জাহাজ আসার কথা। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬টি জাহাজ এসেছে। ১৩ মার্চের মধ্যে আরও তিনটি আসার কথা রয়েছে। এরপর ৩১ মার্চের মধ্যে ৭টি জাহাজ আসার কথা নিশ্চিত করেছে সরবরাহকারীরা। পেছানো বা সরবরাহে অপারগতার কথা জানায়নি কেউ। তবে গতকাল পর্যন্ত জাহাজ আসার সময়সূচি নিশ্চিত করেনি তারা।
বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ পরিবহন হয় ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে এ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের বেশির ভাগ জাহাজ আসে। যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর এটি বন্ধ করে দেয় ইরান। ঝুঁকি থাকায় দিনে কয়েকটির বেশি জাহাজ পার হচ্ছে না এখন। বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে পার হতে দিতে ইরানকে অনুরোধ করেছে সরকার। ইরান সরকার আশ্বস্ত করেছে, বাধা দেওয়া হবে না। এতে করে এ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন করা গেলে সরবরাহ বাড়তে পারে।
আতঙ্কে জ্বালানি তেল বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় গত শনিবার থেকে ফিলিং স্টেশনে ২৫ শতাংশ করে সরবরাহ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি এর আগের দিন থেকে সরকার নির্ধারিত সীমা মেনে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গতকাল রাইড শেয়ারিং করা মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ লিটার তেল সরবরাহের সীমা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ বুধবার থেকে গাড়িতেও তেল সরবরাহের সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া কূটনৈতিকদের গাড়িতে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে সীমা তুলে দেওয়া হতে পারে। গতকাল পেট্রল ও অকটেন সরবরাহের সীমা তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিপিসিকে চিঠি দিয়েছে পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, মার্চে কোনো সরবরাহ সংকট নেই। এপ্রিল ও মে মাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানির বিষয়েও কাজ চলছে। বাংলাদেশে তেল সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে ভারত সরকারকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
ভারত থেকে বাড়তি আমদানির প্রস্তাব
বিপিসি সূত্র বলছে, ভারত থেকে পাইপলাইনে ডিজেল আনতে দেশটির নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর চুক্তি করে বিপিসি। চুক্তি অনুসারে, এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আসার কথা। এর বাইরে আরও অতিরিক্ত ৬০ হাজার টন দেওয়ার কথা, যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে নিশ্চিত ৬০ হাজার ও অতিরিক্ত ৩০ হাজার টন আসার কথা। প্রতিবার ৫ হাজার টন করে ডিজেল পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। কেননা, তেল পাইপলাইন থেকে খালাসের মজুতাগারের সক্ষমতা এটুকুই। মজুত শেষ করার আগে চাইলেও বাড়তি আনা যায় না।
বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে। জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল আনতে প্রতি ব্যারেলের (১৫৯ লিটার) পরিবহন খরচ সাড়ে ৫ ডলার। এ বছর গতকাল পর্যন্ত পাইপলাইনে দুটি চালানে ১০ হাজার টন ডিজেল এসেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা ইন্ডিয়ার অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) থেকেও তেল আমদানি করে বিপিসি। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১ লাখ ৫ হাজার টন তেল আসার কথা। এর মধ্যে ডিজেল ২০ হাজার টন, ফার্নেস ৫০ হাজার টন, অকটেন ২৫ হাজার টন ও জেট ফুয়েল ১০ হাজার টন। সমুদ্রপথে এ জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আইওসিএল।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে ৮ মার্চ জ্বালানি বিভাগের কাছে ভারত থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠায় বিপিসি। এতে বলা হয়, পাইপলাইনে মার্চে ৪ ধাপে ২০ হাজার ও এপ্রিলে ৫ ধাপে ২৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব করা যেতে পারে। পরবর্তী মাসগুলোতেও একই হারে আনা যায়। এ ছাড়া দূরত্ব বিবেচনায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে ৩০ হাজার টন করে চারটি জাহাজে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ করা যেতে পারে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘আজ-কালের মধ্যে তেলের রেশনিং শিথিল হচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। এ সময়ে জ্বালানি সংকট বিপাকে ফেলেছে মানুষকে। এ নিয়ে মোটরবাইক ও প্রাইভেট কার থেকে শুরু করে ভারী যানবাহন মালিকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারও বসে নেই। সরকার প্রতিদিনই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিস্থিতি বুঝে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সরকার মোটরবাইক, কার এবং বাস ও ট্রাকের ওপর তেল ক্রয়ের সীমা শিথিল করতে যাচ্ছে। তবে আপাতত তেলের রেশনিং পুরাপুরি উঠছে না। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে ঘোষণা আসতে পারে আজ বা কালকের মধ্যে।
এদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, মার্চে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি। এপ্রিলে সরাসরি ক্রয়নীতির (ডিপিএম) আওতায় ২ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আনতে দুটি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করছে জ্বালানি বিভাগ। এ দুটি প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে আজ ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে উঠতে পারে। অন্যদিকে ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল আসতে শুরু করেছে ভারত থেকে।
দুপুরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম আপাতত বাড়ানো হবে না। তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সরকার তেল-গ্যাস সরবরাহে সব উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, মধ্যপ্রাচ্যে একটি সংকট চলছে এবং সে সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, এটা বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হবে। এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ আসলে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে খুঁজে বের করা কঠিন; সম্মিলিতভাবেই এ সংকট উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে।’
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়ে অপরিশোধিত ও পণ্যবাহী দুটি জাহাজ ছেড়ে দিতে ইরান সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির এবং অন্যটি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন-বিএসসি বাণিজ্যিক জাহাজ। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১২০ ডালার থেকে কমে মঙ্গলবার ৯০ ডলারে নেমেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি, যাতে জনদুর্ভোগ কমানো যায়, বা অন্তত সহনীয় মাত্রায় রাখা যায়।’ তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা স্বাভাবিক যে চাহিদা মানুষের, তা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি। কারণ আগের সপ্তাহে যখন পাঁচদিন দু-তিনগুণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই এই জ্বালানি কারও না কারও কাছে রয়ে গেছে। সেটি বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক যে চাহিদা ছিল, তা থেকে আমরা কিছুটা রেশনিং করার চেষ্টা করেছি। এরপরও দেখলাম যে কিছু জায়গায় সংকট বেড়েছে।’
জ্বালানি বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে মঙ্গলবার থেকে রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলগুলোকে ২ লিটারের পরিবর্তে ৫ লিটার তেল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বা কাল থেকে কার, বাস এবং ট্রাকের ওপর তেল নেওয়ার সীমা শিথিল হতে পারে। কারে ১০ লিটারের জায়গায় ১৫-২০ এবং বাস-ট্রাকে তেল নেওয়ার সীমা তুলে দেওয়া হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার রাতে এ ব্যাপারে বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বুধবার (আজ) সবাইকে জানানো হবে।
সমকাল
‘যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ব্যাপক হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ১১তম দিন অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ শুরুর পর গত সোমবার রাতে প্রথমবারের মতো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই আলোচনার পর গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, শিগগিরই এ যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, এটি আধিপত্য ধরে রাখতে যুদ্ধ; আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং আবার যুদ্ধ– এ চক্র চালু রাখার চেষ্টা। ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ও অবস্থানে হামলা চালায় ইরান। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩৯ জন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ জন চিকিৎসাধীন। গতকাল এক দিনে ১৯১ জনকে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জন আতঙ্কজনিত রোগে ভুগছেন। বিবিসি জানায়, গতকাল মধ্য ইসরায়েলের আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি আবাসিক ভবনে ইরানের হামলায় ২৯ বছরের এক তরুণী নিহত হয়েছেন। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, হামলায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। সৌদি আরব বলছে, গত সোমবার রাতে তারা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা ছয়টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার জানায়, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকিয়েছে। দেশটি জানায়, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় ইরবিলে তাদের কনস্যুলেটে ড্রোন আঘাত হেনেছে। বাহরাইনের একটি হোটেলে সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরান টাইমস জানায়, ওই হোটেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
বিবিসি ফার্সি জানিয়েছে, ইরানের তেহরান ও কারাজে গত রাতে তীব্র হামলা হয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, এসব হামলা আগের রাতের তুলনায় বেশ তীব্র। বারবার তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। আলজাজিরা জানায়, গতকাল পূর্ব তেহরানের আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত ৪০ ইরানি নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য উল্লেখ করে এএফপি জানায়, ইরানে ১০ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ৫০টির বেশি নৌযানকে।
গত সোমবার ইস্পাহানসহ অন্যান্য বড় শহরেও হামলা হয়। ইস্পাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় হামলা হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ ছাড়া গভর্নরের কার্যালয়েও হামলা হয়েছে। ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব-ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদও বোমায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি দুই দফা যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি ইঙ্গিত করেন। দুবারই আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলছেন, যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত হলো; ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কখনও আক্রমণ করা হবে না– এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বোমা হামলা উপেক্ষা করে নতুন নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানাতে রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ দৃশ্য দেখা যায়। রয়টার্স জানায়, তাদের হাতে ইরানের পতাকা ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা গেছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘নিয়ন্ত্রণহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, নিয়মের মধ্যে আনতে নীতিমালা করছে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি কারিকুলামে দেশে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো নিয়মের মধ্যে আনতে নীতিমালা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ও আইনের অভাবকে কাজে লাগিয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষ এতদিন ইচ্ছেমতো চললেও এবার সেই সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। জানা গেছে, নীতিমালায় যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর ৭০ ভাগেরই নিবন্ধন নেই। এদিকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষাপঞ্জি-টিউশন ফি-ছুটি নির্ধারণ করে দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন খাতে কত টাকা ফি আদায় করা হবে, তাও ঠিক করে দেওয়া হবে। নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে। কমিটি প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিয়ে ব্যয়-বিবরণী তৈরি করবে। প্রতি অর্থবছর শেষে হিসাব নিরীক্ষা সম্পাদন করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠাতে হবে। নিবন্ধন, আয় ব্যয়ের হিসাব দেওয়া থেকে শুরু করে সব কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ড।
জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর জন্য নীতিমালা প্রণয়ণের নির্দেশ দেন। ঐ দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে শিক্ষাব্যবস্থায় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ধর্মীয় বিষয়গুলোর গুরুত্ব বাড়ানো হলেও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব হয়নি। এবার এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকতে হবে। একই রাষ্ট্রে ভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা থাকা যুক্তিসংগত নয়। কেমব্রিজ ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতো আন্তর্জাতিক কারিকুলাম অনুমোদিত হলেও সেগুলোকেও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে আনার বিষয়ে ভবিষ্যতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
গত রবিবার শিক্ষামন্ত্রী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং কোচিং সেন্টারের জন্য নীতিমালা সংক্রান্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আলোচনা করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য নীতিমালার খসড়া করা হয়। বর্তমানে খসড়ায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হচ্ছে। ৭০০ জন বা তার বেশি শিক্ষার্থী, মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষা উপযোগী অবকাঠামোসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা থাকলে তা ‘এ’ শ্রেণিতে পড়বে। ৪০০ থেকে ৭০০ শিক্ষার্থী থাকলে তা ‘বি’ শ্রেণিতে পড়বে। ৪০০ জনের নিচে শিক্ষার্থী থাকলে তা ‘সি’ শ্রেণিতে পড়বে।
অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর ৯৯ ভাগ বাংলাদেশি :ইংলিশ মিডিয়াম ও ইন্টারন্যাশনাল স্কুল দেশের শিক্ষা খাতের বড় একটি অংশ হলেও এর নিয়ন্ত্রণ নেই সরকারের হাতে। নেই কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা ও তদারকি প্রতিষ্ঠান। স্কুলগুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর ৯৯ ভাগ বাংলাদেশি হলেও সেখানে কী পড়ানো হচ্ছে, কারা শিক্ষক, টিউশন ফি ও ভর্তি ফি কত তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো সংস্থার কাছে।
নয়া দিগন্ত
‘জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রশ্নে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে শুরু থেকেই অধিবেশন উত্তপ্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে ওয়াকআউটও করতে পারেন জামায়াত-এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে কাল। সপ্তাহের প্রতি বুধবার আগের মতোই প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। তবে শুরুর পরপরই দু’দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সংসদের কার্যক্রম চলবে আগামী ১৫ ও ১৬ মার্চ (রোববার ও সোমবার)। এরপর আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অধিবেশন ১৩ দিনের জন্য মুলতবি রাখা হতে পারে। ঈদের ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংসদের প্রথম অধিবেশন সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলে এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। একই সাথে একটি স্পিকার প্যানেলও নির্বাচন করা হয়ে থাকে। ডেপুটি স্পিকার পদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর কাউকে মনোনয়ন দিতে সরকারি দল বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থানের ওপর জামায়াত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা জানিয়েছে।
প্রথম দিনেই নবনির্বাচিত স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতা ও উপনেতার অনুমোদন দেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দীর্ঘ আলোচনা করে থাকেন।
তবে এবারের প্রথম অধিবেশনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় নতুন নির্বাচিত সংসদকে প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। গণভোট আয়োজন সংক্রান্ত আদেশে এমন নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে।
সে অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একই দিনে দু’টি শপথ নেয়ার কথা ছিল- একটি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। কিন্তু সরকারি দল বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। অন্য দিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা দু’টি শপথই গ্রহণ করেছেন। ফলে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সঙ্কটের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক সালাহউদ্দিন আহমেদ একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, বৃহৎ বিরোধী দল বলছে জনরায় অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এমপিদের শপথ নিতে হবে বলছেন। তাদের এ বক্তব্য গায়ের জোরে। আমরা সংবিধান মেনেই এ পর্যন্ত এসেছি। সংবিধান মেনে চলছি, সামনে মেনে চলব। কিন্তু আমাদের বক্তব্য ছিল যদি আমরা গণভোটের রায়কে সম্মান দিতে চাই, জাতীয় সংসদে আগে যেতে হবে। সেখানে আলাপ আলোচনা করে আইন প্রণয়ন করতে হবে। সংবিধানে সেটা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারপরে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয়, সেখানেই নির্ধারণ হবে। এবং কোন ফরমে শপথ হবে সেটা তৃতীয় তফসিল আনতে হবে। কে শপথ বাক্য পাঠ করাবে, সেটা নির্ধারিত হবে। তারপর এটা বিধিসম্মত হবে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘ইউরোপে পণ্য পাঠাতে সংকটে পড়েছে বাংলাদেশী পোশাক রফতানিকারকরা’। খবরে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালসহ উপসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমুদ্রপথে পরিবহন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে দেশে রফতানি আয়ের অন্যতম উৎস পোশাক খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্পের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে আট মাস ধরেই রফতানি খাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির চাপে রয়েছে, তার মধ্যে নতুন এ পরিস্থিতি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন তারা।
দক্ষিণ এশিয়া বিশ্ব পোশাক উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের কারখানাগুলো থেকে ইউরোপের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য নিয়মিত পোশাক সরবরাহ করা হয়। এসব পণ্যের একটি বড় অংশই জরুরি সরবরাহের ক্ষেত্রে আকাশপথে ইউরোপ ও অন্যান্য বাজারে পাঠানো হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বেশির ভাগ আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুবাই কয়েক দিন কার্যত বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতির কারণে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ইত্তিহাদসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বিমান সংস্থাগুলো বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট বাতিল করে। আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ওই রুটে নির্ভরশীল পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে পণ্য পরিবহনে উপসাগরীয় অঞ্চলের এয়ারলাইনসগুলোর ওপর বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক ফ্লাইটের কার্গো হোল্ডের পাশাপাশি বিশেষায়িত মালবাহী উড়োজাহাজের মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশের মোট এয়ার কার্গোর অর্ধেকেরও বেশি উপসাগরীয় হাব হয়েই পরিবাহিত হয়। ভারতের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ৪১ শতাংশ। এর মধ্যে এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাহক। তাদের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ইউরোপ ও অন্যান্য বাজারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত পোশাকের চালান এখন ঢাকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় রুটগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এ রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপগামী অধিকাংশ কনটেইনার জাহাজ সাধারণত লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে যায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক রুটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে জাহাজগুলোকে বিকল্প পথে ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি, বীমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অনেক শিপিং লাইন নতুন বুকিং নিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে; কেউ কেউ সাময়িকভাবে বুকিং স্থগিত করেছে, আবার কেউ বিকল্প ও দীর্ঘ রুটে ঘুরে চলাচলের কারণে ভাড়া বাড়িয়েছে। এতে রফতানিকারকদের জন্য কনটেইনার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে পরিবহন ব্যয় ও পণ্য পৌঁছানোর সময়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত সরবরাহনির্ভর ফ্যাশন শিল্পে এর প্রভাব পড়বে আরো বেশি।
বাংলাদেশী পোশাক প্রস্তুতকারক স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ১০ শতাংশ আকাশপথে এবং ৪০-৫০ শতাংশ জাহাজে করে উপসাগরীয় রুটে পরিবহন করা হয়। এ রুট ব্যবহার করলে দূরত্ব তুলনামূলক কম পড়ে। বাংলাদেশের অন্যতম রফতানি গন্তব্য যেহেতু ইউরোপ তাই এটি আমাদের জন্য অন্যতম প্রধান রুট। এর বাইরে আমরা যে বিকল্প ট্রানজিট সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতাম, তা হলো ভারতের ট্রানজিট সুবিধা। ট্রাকে করে পণ্য ভারতের বিমানবন্দরে পাঠিয়ে সেখান থেকে ট্রানজিট করা হতো। এটি আমাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সে সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গালফ রুটও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এখন আমাদের কার্যত ভরসা প্যাসিফিক রুট। কিন্তু এ রুটে পরিবহন খরচ বেশি, সময়ও বেশি লাগে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য এয়ার কার্গোতেও যায়। অনেক ক্রেতা নিজেদের খরচে দ্রুত চালান নিয়ে থাকেন। সেখানেও এখন বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এটি আমাদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়।’
দেশের পণ্য রফতানি খাত এরই মধ্যে ধারাবাহিক চাপের মুখে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ সময়ে তৈরি পোশাক (আরএমজি) রফতানি হয়েছে ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। চলতি মাসে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আজকের পত্রিকা
‘৮ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্বরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়াই’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র ছাড়াই অন্তত আট হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এসব লাইসেন্সের অধিকাংশই পেয়েছেন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং তাঁদের স্বজনেরা।
২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত দেওয়া এসব লাইসেন্সের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানলেও এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে। জেলায় জেলায় তদন্ত কমিটি কাজ করছে। মন্ত্রণালয় বলছে, যাচাই-বাছাই শেষে অনিয়ম প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিল, অস্ত্র জব্দ এবং মামলা করা হবে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু অনাপত্তিপত্রের বিষয় নয়, আরও কিছু অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে শটগান বা এনপিবি রাইফেলের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালা ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অনুমোদনের পর জেলা প্রশাসক (ডিসি) লাইসেন্স দিতে পারেন। কিন্তু পিস্তল বা রিভলবারের ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক আবেদনকারীকে যোগ্য মনে করলে সুপারিশসহ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়। মন্ত্রণালয় অনাপত্তি দিলে জেলা প্রশাসক লাইসেন্স ইস্যু করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে দেওয়া অন্তত ৮ হাজার ১৭৩টি পিস্তল ও রিভলবারের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের এই অনাপত্তি নেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও পাঠানো হয়নি। জেলাগুলোর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের হিসাব মেলানোর সময় এই নিয়ম লঙ্ঘন ধরা পড়ে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত এসব লাইসেন্স নামমাত্র কাগজপত্র এবং রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানলেও এত দিন কেউ প্রকাশ্যে এ নিয়ে কিছু বলেননি।
ওই সময় একটি জেলায় ডিসি থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি যে জেলায় দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে এমনটা খুব একটা হয়নি। তবে বিষয়টি তাঁরা সবাই জানেন। সবকিছু দলীয়ভাবে পরিচালিত হলে এমন হওয়াই স্বাভাবিক। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মন্ত্রীর সুপারিশ থাকায় এবং আবেদনকারী মন্ত্রীদের স্বজন হওয়ায় আবেদনগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন কেউ অনুভব করেননি। আর পাঠালেও তা অনুমোদন হয়েই আসত, তাই কেউ গুরুত্ব দেননি।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘শাহজালালে নিরাপত্তার চাদরে বড় ছিদ্র!’। খবরে বলা হয়, সরকার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনেও পরিবর্তন হয়। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এ ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। দেশ-বিদেশের যাত্রীরা প্রায়ই সেখানে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অপরাধীদের আনাগোনাও বেড়েছে। রেন্ট-এ কারের লোকদের চেঁচামেচিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা। ইমিগ্রেশনে গিয়ে লম্বা লাইনে অহেতুক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে যাত্রীদের। একটু সন্দেহ হলেই জেরা করতে করতে কাহিল করা হচ্ছে তাদের। নিরাপত্তার ফারাক থাকায় প্রবল হুমকিতেও আছে বিমানবন্দরটি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এতগুলো সংস্থা কাজ করার পরও বিমানবন্দরে চোরাকারবারিরা এখন অনেকটা বেপরোয়া। স্ক্যানার মেশিনের ফাঁক দিয়ে অবৈধ মালামাল বের হচ্ছে। এসব তথ্য পেয়ে বেবিচক বিমানবন্দরের পরিস্থিতি আরও উন্নতি করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি দুর্বল স্থানগুলো চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদনও তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন নতুন পরিকল্পনা করলেই হবে না, প্রয়োজন কঠোর তদারকি। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে সৎ ও কর্মঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) মানদণ্ড বজায় রাখতে না পারলে দেশের অ্যাভিয়েশন খাত আন্তর্জাতিকভাবে কালো তালিকায় পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। তাদের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দর দেশের সম্মানের প্রতীক। এখানে একজন যাত্রীর প্রথম ও শেষ অভিজ্ঞতা দেশের ভাবমূর্তি নির্ধারণ করে। হয়রানি ও নিরাপত্তার ছিদ্রগুলো দ্রুত বন্ধ করা না গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।
বেবিচক-সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, শাহজালালের নিরাপত্তা বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ভিআইপি ও ভিভিআইপি শ্রেণির যাত্রীদের লাগেজ স্ক্রিনিংয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাগেজ মেটাল ডিটেক্টর ও এক্স-রে মেশিনে স্ক্যানের পরও অবশ্যই ম্যানুয়ালভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে আগাম অনুমতির বাধ্যবাধকতা এবং অনুমতির তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে। কোনো নিরাপত্তাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন ও দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।