Image description

গাড়ি চলছিল। বহর তেমন বড় নয়। সাধারণত মন্ত্রীদের সঙ্গে যে বহর থাকে সেটিও নয়। মন্ত্রী যাচ্ছেন, অনেকেই ধারণা করতে পারছেন না। জগন্নাথপুর পাড়ি দিয়ে বিশ্বনাথ আসতেই চোখে পড়লো বাজার। মন্ত্রী বললেন; ‘গাড়ি থামাও।’ এরপর নেমে গেলেন বাজারে। জানতে চাইছেন নিত্যপণ্যের দামের অবস্থা। কথা বললেন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। এমন ঘটনা গতকাল ঘটেছে সিলেটের বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরান বাজারে। ঐতিহ্যবাহী বাজার এটি। তবে বাজারে জিনিসপত্রের দাম দেখে মন্ত্রী সন্তুষ্ট হলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

মন্ত্রী পরিষদের স্মার্ট সদস্য হিসেবে তিনি এরই মধ্যে নজর কাড়তে শুরু করেছেন। সিলেট-১ আসনের এমপি তিনি। সিলেট অঞ্চলে সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বিতরণের অংশ নিতে সোমবার রাতে তিনি সিলেট সফরে এসেছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। এরপর সড়ক পথেই তিনি সেখান থেকে সিলেট ফিরছিলেন। দিরাই থেকে জগন্নাথপুর হয়ে তার গাড়ি বহর সিলেটের পথ ধরে। পথেই বিশ্বনাথ সদর। বেলা তখন আড়াইটা। মন্ত্রীর বহরে তেমন গাড়ি নেই। বিশ্বনাথের বাজারের ব্যবসায়ীরা মনে করছিলেন প্রশাসনের কেউ হবে। পুরাতন বাজারের সামনে এসে হঠাৎ গাড়ির ব্রেক কষলো।

গাড়ি থেকে নেমে গেলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির। সড়ক থেকে গলিতে ঢুকতেই চোখে পড়লো সামনে পিয়াজ, রসুন, আদাসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। গলিতে বসেই তারা ব্যবসা করছেন। সঙ্গে থাকা নেতারা জানিয়েছেন- প্রথমে বাণিজ্যমন্ত্রীকে কেউ চিনেননি। তিনি গাড়ি থেকে নেমেই ব্যবসায়ীদের সামনে চলে যান। সাধারণ ক্রেতার মতোই দেশি পিয়াজ দেখে জানতে চাইলেন এক কেজির দাম কতো?- জবাবে ওই দোকানি বললেন- ৩৫ টাকা। এভাবে রসুন, পিয়াজের দামও জিজ্ঞেস করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

ফুটপাথে কয়েকটি দোকান পরিদর্শনের পর তিনি ঢুকে পড়েন মার্কেটের ভেতরের দোকানে। প্রথমেই যান মা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানে। ভেতরে ঢুকেই দেখেন ভোজ্য তেল ক্যাশ বাক্সের সামনেই রয়েছে। প্রথমে দোকানি তাকে চিনেন নি। মন্ত্রী ৫ লিটার সয়াবিন তেলেন দাম জানতে চান। দোকানি বলেন- ৯৫০ টাকা। এভাবে তিনি কয়েকটি কোম্পানির ভোজ্য তেলের দাম জানেন। এক লিটার ও দুই লিটার তেলেরও দাম শুনলেন। মন্ত্রী যখন দোকান থেকে বের হচ্ছিলেন তখন দোকানি তাকে চিনলেন। সঙ্গে পুলিশ ছিল। কিন্তু কোথায় কখন কোন দোকানে তিনি ঢুকছেন সেটি কাউকে বলছেন না।

এভাবে মন্ত্রী বিশ্বনাথ বাজারের ২৫ থেকে ২৬টি নিত্যপণ্যের দোকান ঘুরে পণ্যের দাম যাচাই করেন। প্রায় দোকানেই দাম ছিল প্রায় একই। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন- মহানগর বিএনপি’র সভাপতি নাসিম হোসাইন ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ কয়েকজন নেতা। সঙ্গে থাকা নেতারা জানিয়েছেন- মন্ত্রী জগন্নাথপুর থেকে বিশ্বনাথ ঢুকেই হঠাৎ করে গাড়ি থামিয়ে দেন। এটি তার কোনো নির্ধারিত সফর ছিল না। সামনে বাজার দেখেই তিনি গাড়ি থামিয়ে নেমে যান। নামার কারণ প্রসঙ্গে তারা বলেন- মন্ত্রী গাড়ি থেকেই দেখছিলেন গলিতে পিয়াজ, রসুন, আদা নিয়ে বসে আছেন দোকানি।

মূলত মফস্বলের বাজারের দাম জানতেই তিনি বিশ্বনাথ বাজারে নামেন তিনি। ঘুরেন, দেখেন এবং দাম জিজ্ঞেস করলেন। তারা বলেন- পরিদর্শনকালে মন্ত্রী দেখেছেন বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে। দামও রয়েছে সহনীয় পর্যায়ে। মন্ত্রী এ সময় ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন- পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সংকট হবে না। আপনারা নির্ধারিত মূল্যেই পণ্য বিক্রি করুন। সরকার আপনাদের পণ্য জোগান দিতে কাজ করে যাচ্ছে। এদিকে বিশ্বনাথ বাজারে যখন মন্ত্রীর আগমন এবং বাজার পরিদর্শন করছিলেন তখন নীরবই ছিল পরিস্থিতি। কিন্তু পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয়, মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ফলে প্রায় আধাঘণ্টা বাজার মনিটরিংয়ের পর গাড়িতে উঠে সিলেটের পথে রওয়ানা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।