শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাশার ইউনিয়নের লতাবাগ এলাকার ফকিরকান্দিতে ঈদ উপলক্ষে গরু কেনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫টি বাড়িঘর ও একটি মুদি দোকানে ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযুক্ত পক্ষ লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের ফাঁসাতে নিজেরাই মালামাল সরিয়ে লুটপাটের নাটক সাজানো হয়েছে।
সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি পালং মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লতাবাগের ফকিরকান্দি এলাকায় প্রতিবছর সমাজের মুরুব্বীদের উদ্যোগে এলাকাবাসীর অর্থায়নে একটি গরু কেনা হয়। পরে সেই গরু জবাই করে সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নেন। এ বছর ওই নিয়মের বাইরে গিয়ে আলাদাভাবে গরু কিনতে চান ফরহাদ ফকির (৩৫)। বিষয়টি নিয়ে সাইদুর রহমান ফকিরের ভাই নয়ন ফকির (৬৫) ফরহাদের কাছে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে।
সংঘর্ষে নয়ন ফকির ও তার ছেলে সাগর ফকির (৩৫) আহত হন। পরে তুলাশার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ টিপু মাদবর ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠান এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
ঘটনার পর ফরহাদ ফকির এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে। এদিকে নয়ন ফকির গুরুতর আহত হয়েছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে তার পক্ষের লোকজন ফরহাদ ফকির, তার বাবা আব্দুল কুদ্দুস ফকির, মইনুদ্দিন ফকির, হালিম ফকির ও কাদের ফকিরের বাড়ি এবং একটি মুদিদোকানে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ফরহাদের বাড়ি ও মইনুদ্দিনের দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আহত নয়ন ফকিরের ভাই সাইদ ফকির বলেন, প্রতি বছর এলাকাবাসী মিলে গরু কিনে ঈদে ভাগাভাগি করে খাওয়া হয়। এ বছর ফরহাদ একা গরু কিনতে চাইলে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফরহাদ ও তার লোকজন আমার ভাই নয়ন ও ভাতিজা সাগরকে পিটিয়ে আহত করে। পরে আমাদের লোকজন ক্ষোভে সামান্য ভাঙচুর করেছে, কিন্তু কোনো লুটপাট হয়নি। তারা নিজেরাই মালামাল সরিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে।
অন্যদিকে ফরহাদ ফকির দাবি করেন, তিনি নিজ উদ্যোগে গরু কিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে ভাগ করে খেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে নয়ন ফকির ও সাইদ ফকির তাকে মারধর করেন। পরে তার বাড়ি ও স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তার স্ত্রীর প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি এনজিও থেকে নেওয়া ৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তুলাশার ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ টিপু মাদবর বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবির হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংঘর্ষের বিষয়টি জানতে পারি। লতাবাগ এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পাশাপাশি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উভয় পক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলেও জানানো হয়েছে।