আসামির স্বজনদের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবি করে পদ হারিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে জামিন করে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে সাইমুম রেজা এ টাকা দাবি করেন। বিষয়টি ফজলে করিমের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে অবহিত করার পর সোমবার (৯ মার্চ) প্রসিকিউটর পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাইমুম রেজা।
তার ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেল, প্রসিকিউটর হিসেবে সরকারি পদে থাকা অবস্থায় সাইমুম রেজা নাম লেখান বিএনপিপন্থি পেশাজীবী সংগঠনে। ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’ নামে ওই সংগঠনের আইনবিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন সাইমুম রেজা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের প্যাডে এক প্রেস রিলিজে এ কমিটি অনুমোদনের খবর জানানো হয়। কমিটি অনুমোদন হয়েছে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামানের স্বাক্ষরে।
বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি দপ্তরের প্রেস রিলিজে বলা হয়, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা ও কর্মরত জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিবর্গদের গত কয়েকটি সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গঠিত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম’ এর কমিটি অনুমোদন দেওয়া হলো।
কমিটি ঘোষণার পর জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের অন্য নেতাদের সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন সাইমুম রেজা—এমন বেশকিছু ছবিও দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে সাইমুম রেজা তালুকদার বেসরকারি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার রাতে বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি ‘চ্যানেল ২৪’ সাইমুম রেজা তালুকদারের ঘুষ চাওয়ার অডিও প্রকাশ করে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এ বিষয়ে নেত্র নিউজ ও প্রথম আলোর যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রসিকিউটর হওয়ার পরও একটি দলীয় সংগঠনের পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইমুম রেজা তালুকদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলাম। তবে সংগঠনটির কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। সে কারণে এখন আছি এটা বলা যাবে না।’ তবে কমিটি কবে কীভাবে বিলুপ্ত হয়, এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এশিয়া পোস্ট