Image description

স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে ভুলক্রমে একটি ট্রেনে উঠে পড়ে ১০ বছর বয়সী শিশু আবদুল্লাহ। এরপর আর তার বাড়ি ফেরা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজতে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্বজনরা। কুমিল্লা থেকে হারানো আব্দুল্লাহ অবশেষে দীর্ঘ ৮ মাস পর তার পরিবারের কাছে ফিরেছে। আর আব্দুল্লাহকে তার স্বজনদের কাছে ফিরতে সহযোগিতা করেছে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশ।

সোমবার (৯ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। অনেক দিন পর ভাইকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশু আব্দুল্লাহ। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আব্দুল্লাহ কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মামুন মিয়ার ছেলে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ মাস আগে গত বছরের জুলাই মাসের শুরুতে আবদুল্লাহ স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। তখন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সে ভুলক্রমে একটি ট্রেনে উঠে পড়েছিল। ফলে সে আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। 

রবিবার (৮ মার্চ) ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনের স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট (এসএস সিগন্যাল) মো. ইফতেখারুল ইসলাম আবদুল্লাহকে দেখতে পান। এরপর রাত ৯টার দিকে শিশু তাকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কর্তব্য ও মানবিকতার তাগিদে রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়দের উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুল্লাহর নিখোঁজের বিষয়ে প্রচার চালানো হয়। পরে ধীরে ধীরে কথা বলা শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

আব্দুল্লাহর ভাই ফাহিম হোসেন বলেন, ‌‘স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি। ৮ মাস পর রবিবার রাতে জানতে পারি আব্দুল্লাহকে এখানে (ঈশ্বরদীতে) পাওয়া গেছে। পরে রাতেই ঈশ্বরদীতে এসেছি এবং আজ (সোমবার) তাকে নিয়ে যাচ্ছি। আব্দুল্লাহকে ফিরে পেয়ে আমরা খুব খুশি।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শিশুটিকে পাওয়ার পর সে তার ঠিকানা দিতে পারেনি। পরে আমরা সব থানা, ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাই। অবশেষে তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তার দুই ভাই ফাহিম ও রিশাত থানায় আসার পর আব্দুল্লাহ দুই ভাইকে জড়িয়ে ধরে এবং তাদের মুখ ও কপালে হাত রেখে দীর্ঘদিনের না পাওয়ার কষ্টের এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সবাই সেই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।’

জিআরপি ওসি আরও বলেন, ‘সেই মুহূর্তে নিজেকে সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। হয়তো এটিই মানবতা। আমরা ছোট্ট একটি চেষ্টা করেছি। শিশুটির নোংরা পোশাক পরিবর্তন করে তাকে নতুন একটি পোশাক পরিয়ে দিয়েছি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’