জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে মনোনয়ন পেতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে এই তালিকা চূড়ান্ত করবেন। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরপরেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।
সংরক্ষিত নারী আসনের আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। এই সূত্র অনুযায়ী সম্ভাব্য আসন বণ্টন হতে পারে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় নিয়ে পাবে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন। জামায়াত এককভাবে ৬৮ আসনে জয় পেয়েছে। সেই হিসেবে ১১টি আসন পেতে পারে সংরক্ষিত নারী আসনে। এছাড়া ছয় আসনে জতীয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে একটি। বাকি তিন আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের পরেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য দাপ্তরিক সব প্রস্তুতি গুছিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনগুলো হবে নবীন-প্রবীণের মিশ্রণে। তবে অপেক্ষাকৃত তরুণদের বড় একটা অংশকে দেখা যেতে পারে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়নের বিষয়টি ঈদের আগে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেছে। এ জন্য মহিলা বিভাগ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
এনসিপি সংরক্ষিত নারী আসনে একজনকে পাঠাতে পারবে। এ পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা দুজনেই।
মনিরা শারমিন নওগাঁ-৫ আসন থেকে এবং মাহমুদা আলম (মিতু) ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানান। তবে দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তাদের দুজনকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়।