Image description

হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দ্বারা ইনজেকশন পুশ করানোর পর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালের স্ক্যানু ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নবজাতকের বাবা রফিক মিয়া বানিয়াচং উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

নবজাতকের বাবা বলেন, আমার ছেলেটা জন্মের সময় একদম সুস্থ ছিল। কিন্তু হাসপাতালের অবহেলায় আমার সন্তানকে হারাতে হলো। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রফিক মিয়ার স্ত্রী খাদিজা আক্তারের প্রসব ব্যথা ওঠে। পরে তাকে শহরের সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পিজি হাসপাতালের অধ্যাপিকা তৃপ্তি দাশের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।

স্বজনদের দাবি, জন্মের সময় নবজাতকটি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় শিশুটিকে পরে সদর হাসপাতালের শিশুদের স্ক্যানু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

রফিক মিয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি করার পর সারাদিন ও রাতভর নবজাতকটি সুস্থ অবস্থায় ছিল। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নার্সের পরিবর্তে হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিশুটিকে একসঙ্গে দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।

ঘটনার পরপরই হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে নানা অভিযোগ উঠলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, অনেক সময় চিকিৎসকের পরিবর্তে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। একইভাবে নার্স বা ব্রাদারের দায়িত্ব থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ওয়ার্ড বয়, ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ইনজেকশন পুশসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ করে থাকেন। এতে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং রোগীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক বলেন, নবজাতকের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুল চিকিৎসা বা ভুল ওষুধ প্রয়োগে মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। স্বজনরা অভিযোগ করতে পারেন, তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।

মর্মান্তিক এ ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।