Image description
৭দিনে ২৪৫ ফ্লাইট বাতিল

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে ফ্লাইট বাতিল শুরু হয়। এতে করে গত এক সপ্তাহে ঢাকা থেকে অন্তত ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আর চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকেও অর্ধশতাধিকের উপরে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা যত বাড়ছে ততই মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের দুর্ভোগ ও হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যর বাংলাদেশি শ্রমিকরা বেশি বিপাকে রয়েছেন। এর বাইরে এসব দেশ হয়ে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে দেশে আসার জন্য অনেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের হয়ে ট্রানজিট দেন। তারাও আটকা পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এ ছাড়া বাংলাদেশি ওমরাহ্‌ যাত্রীরাও আটকা পড়ছেন। তারা দেশে আসার দিন গুনছেন। তবে ঝুঁকি নিয়ে কিছু এয়ারলাইন্স স্বল্প ফ্লাইট চালু করলেও আকাশচুম্বী ভাড়া হওয়াতে স্বস্তি পাচ্ছেন না যাত্রীরা। সরকার ও এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়া রিসিডিউল করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।

হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রথম ফ্লাইট বাতিল শুরু হয়ে ৬ই মার্চ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ২৪৫টি ফ্লাইট। হিসাবমতে, ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১লা মার্চ ৪০টি, ২রা মার্চ ৪৬টি, ৩রা মার্চ ৩৯টি, ৪ঠা মার্চ ২৮টি, ৫ই মার্চ ৩৬টি, ৬ই মার্চ ৩৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ৬ই মার্চ বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্য কুয়েত এয়ারলাইন্সের ৪টি, জাজিরা ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৬টি, কাতার ৪টি, ফ্লাইদুবাই ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৫টি, গালফ এয়ার ২টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্স ৪টি মিলিয়ে মোট ৩৩টি। ৫ই মার্চ বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্য কাতার ৪টি, কুয়েত ৪টি, জাজিরা ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ১০টি, এমিরেটস ৪টি, ইউএস-বাংলা ২টি, গালফ এয়ার ২টি, ফ্লাইদুবাই ৪টি। ৪ঠা মার্চ বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্য কাতার ৪টি, কুয়েত ২টি, জাজিরা ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৮টি, এমিরেটস ৫টি, ইউএস-বাংলা ৪টি, বিমান বাংলাদেশ ৩টি। ৩রা মার্চ কাতার এয়ারলাইন্সের ৪টি, এমিরেটসের ৪টি, গালফ এয়ারের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি, কুয়েত এয়ারে ২টি, জাজিরা এয়ারের ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ১২টি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ২রা মার্চ কাতার এয়ারওয়েজ ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্স ৫টি, গালফ এয়ার ২টি, ফ্লাইদুবাই ৪টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৮টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৪টি ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ১লা মার্চ জাজিরা এয়ারওয়েজ ২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্স ৫টি, গালফ এয়ার ২টি, ফ্লাইদুবাই ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ২টি, সালাম এয়ার ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৮টি, কুয়েত এয়ারওয়েজ ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৪টি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১টি, গালফ এয়ার ১টি, ফ্লাই দুবাই ১টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৬টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১টি।

মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়া এবং পুনরায় চালু না হওয়াতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা হতাশায় পড়েছেন। যারা ছুটি নিয়ে দেশে এসেছিলেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে তারা এখন চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। কারণ তাদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কারও আবার শেষ হওয়ার পথে। সময়মতো চাকরিতে যোগদান না করলে অনেকেই বিপদে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন। তাই ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়েও অনেকেই বিমানবন্দরে এসে ভিড় করছেন। কবে তারা কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন সেটিও নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স, ট্র্যাভেল এজেন্সিতে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন। আর সদ্য ভিসা পেয়ে যারা নতুন মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে চান তারাও একটা অনিশ্চয়তার মধ্য আছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধপরিস্থিতির আগে যারা ওমরাহ্‌ করতে বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলেন তারাও বিপাকে পড়েছেন। কারণ ওমরাহ্‌ শেষ করেও তারা দেশে ফিরতে না পেরে সেখানেই অবস্থান করছেন। ফ্লাইট না থাকায় তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। তাদের অনেকেই থাকা খাওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। যে বাজেট নিয়ে তারা ওমরাহ্‌ করতে গিয়েছিলেন সেটিও অনেকের শেষ হয়েছে। এখন দেশ থেকে টাকা নিয়ে তারা দিন পার করছেন। বিকল্প কোনো উপায়ও খুঁজে পাচ্ছেন না। আর কবে ফিরতে পারবেন সেটিও নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাই তারা অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

অন্যদিকে ইউরোপ আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার জন্য অনেক যাত্রী মধ্যপ্রাচ্যর দেশে ট্রানজিট নেন। তারাও ২৮ তারিখ থেকে বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছেন। জরুরি কাজে যারা দেশে ফিরছিলেন তারাও সেখানে আটকা পড়েছেন। তবে বেশ কিছু এয়ারলাইন্স পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। দুবাই এয়ারপোর্ট অথরিটি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি প্রদান করেছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর বাণিজ্যিক ফ্লাইটের নিরাপদ পরিচালনার জন্য সীমিত সূচি নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এমিরেটস। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকা চট্টগ্রাম-আবুধাবী ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউএস-বাংলা। এ ছাড়া ঢাকা দুবাই ঢাকা রুটেও বিশেষ দু’টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে ইউএস-বাংলা।