Image description

রোজা রেখে অজু-গোসলের সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন গলায় পানি প্রবেশ করতে না পারে। রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজু-গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতও যদি গলার ভেতর পানি চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। রোজার কাজা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কাফফারা দিতে হবে না।

 

ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) বলেন, ‘রোজা অবস্থায় কুলি করার সময় অথবা নাকে পানি দেওয়ার সময় যদি পানি ভেতরে প্রবেশ করে এবং তা গলায় চলে যায়, তবে সে ওই দিনের রোজা পূর্ণ করবে। পরে তা কাজা করবে।’ (কিতাবুল আসার, হাদিস: ২৮৭)

 

রোজার কথা স্মরণ না থাকা অবস্থায় যদি গলায় পানি চলে যায়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। ওই রোজার কাজা-কাফফারা কোনোটিই আদায় করতে হবে না। কারণ, ভুলে পানাহার করলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ভুলে আহার করল বা পান করল, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। এর কারণ আল্লাহ তাকে পানাহার করিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, খণ্ড:১, পৃষ্ঠা:২০২)

 

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘যে রমজান মাসে ভুলে পাহানার করল, তার ওপর কোনো কাজা নেই, কোনো কাফফারও নেই। (ইবনে হিব্বান, খণ্ড:৮, পৃষ্ঠা: ২৮৮)

 
 

 

মনে রাখতে হবে, রোজা রেখে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে পানি যেন পেটে চলে না যায়।

 

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়

 

  • রোজা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। ওই রোজা ফরজ, ওয়াজিব বা নফল হোক না কেন। সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভেঙে গেলে কাজা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৯১৩১)
  • ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। (সুনানে দারা কুতনি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৯১)
  • বিভিন্ন যৌনঘটিত কারণে কিংবা হস্তমৈথুন ইত্যাদি কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো হলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৬৪)
  • যদি কেউ ইচ্ছা করে মুখ ভরে বা পরিমাণে অনেক বমি করে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৭২০)
  • যদি রোজা অবস্থায় কোনো নারীর হায়েজের (মাসিক) রক্ত দেখা দেয় অথবা নেফাসের অবস্থার শুরু হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। (আল-মুহিতুল বুরহানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪০১)