Image description

অস্ট্রেলিয়ার সেনাপ্রধান হতে চলেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান মে কয়েল। জুলাই মাস থেকে দায়িত্ব নিতে যাওয়া এই সেনা কর্মকর্তা দেশটির ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান, তবে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম নন।

ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ-প্রধান সামরিক কাঠামোতে বা প্রতিরক্ষায় শীর্ষস্থানে কোনো নারীর নিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিরল। অস্ট্রেলিয়ার আগে মাত্র দুইটি দেশেই সেনাপ্রধান হিসেবে কোনো নারী দায়িত্ব পেয়েছেন।

সুসান মে কয়েল বর্তমানে চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৭ সালে তিনি আর্মি রিজার্ভে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পূর্ণকালীন বাহিনীতে যোগ দেন এবং ধাপে ধাপে নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেন।

তিনি সিগন্যালস ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ইউনিটে কাজ করে সামরিক যোগাযোগ ও ডিজিটাল সক্ষমতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিমোর-লেস্তে, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং আফগানিস্তানে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের সাইবার ও তথ্যযুদ্ধ সক্ষমতা উন্নয়ন, স্পেস কমান্ডের পরিকল্পনা এবং যৌথ টাস্কফোর্স পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস মেডেলসহ একাধিক সামরিক সম্মাননা রয়েছে তার।

নারী সেনাপ্রধান নিয়োগে ইতিহাসে প্রথম নামটি স্লোভেনিয়া। ২০১৮ সালে মেজর জেনারেল আলেনকা এরমেঙ্ককে চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দেশটি ইতিহাস সৃষ্টি করে। তিনি সামরিক প্রশিক্ষণ ও নেতৃত্ব উন্নয়ন খাতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

কিংস কলেজ লন্ডন এবং রয়্যাল কলেজ অব ডিফেন্স স্টাডিজ-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কৌশলগত প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তার কর্মজীবনে তিনি প্রশিক্ষণ কমান্ড, লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই তালিকায় পরের নামটি কানাডার, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জেনি ক্যারিগনান। কানাডার প্রথম নারী চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ (প্রধান) হিসেবে ২০২৪ সালে তিনি দায়িত্ব পান। কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ এই সামরিক পদে অধিষ্ঠিত এই সেনা কর্মকর্তা ৩৫ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জেনি ক্যারিগনান কানাডিয়ান আর্মির কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বসনিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি একটি মেকানাইজড ব্রিগেড গ্রুপের কমান্ডার হন। তিনি ন্যাটোর ইরাক মিশনের নেতৃত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেন।

২০২৬ সালের জুলাইয়ে সুসান মে কয়েলের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস সুসানের এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়াকে সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে নারীদের এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৈশ্বিক সামরিক ব্যবস্থায় যখন নারী-পুরুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থানের প্রেক্ষিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত হতে চলেছে।