ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চালকরা ফুল ট্যাংক করে রাখছেন, ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল-অকটেন-ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিলিং স্টেশন (তেল পাম্প) বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এতে অনেকেই গাড়ির তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
নীলক্ষেত-নিউমার্কেটের সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের পথের বন্ধু ফিলিং স্টেশনের স্টাফ মিলন বলেন, বিকেল থেকেই চাহিদা বেশি ছিল। যা তেল ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। গাড়ি না আসলে আর তেল দিতে পারবো না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টা পাশের পাম্পের বিক্রেতা বলেন, পাম্পে তেল নেই। রাত ৯টার পর গাড়ি আসার কথা। গাড়ি আসলে তারপর তেল সাপ্লাই দিতে পারবো। এখন তেল নাই তাই বন্ধ রাখছি।
গাড়ির তেল নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। মোস্তফা আহমেদ নামের একজন বলেন, তেল নিতে আসছিলাম। এসে দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্পের লোক বলছে তেল নাই। সরকার বলছে আসছে, এরা বলছে নাই। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দিয়ে ভরসা নাই। হতে পারে কৃত্রিম সংকট তৈলি করছে।
নীলক্ষেত মোড়ে রাসেল মিয়া বলেন, তেল নেবো কিন্তু পাম্প বন্ধ। বলছে তেল নাই। যুদ্ধের কারণে সংকট হলে এখনই তো আর তেল শেষ হয়ে যায়নি। জানি না দাম বাড়ানোর জন্য পাম্প বন্ধ রাখছে কি না।
এদিকে মার্চ মাসে দেওয়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের, পেট্রোল প্রায় ১৫–১৭ দিনের, অকটেন প্রায় ২৮ দিনের, ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিন, জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত আছে।
সরকারি তথ্যের হিসাবে এখনই জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার কথা না। তবে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ায় আহ্বান জানিয়েছে।
শীর্ষনিউজ