সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘জামায়াত ১৬৮ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতো সেটা ইঞ্জিনিয়ারিং করে ৬৮ আসন করা হয়েছে’। কিছু পোস্টে সাম্প্রতিক সময়ে চ্যানেল ওয়ানে দেওয়া উনার এক সাক্ষাৎকারের ছবি এবং ভিডিও দিয়ে এই দাবি ছড়ানো হচ্ছে।
এমন দাবিতে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
এছাড়া ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাক্ষাৎকারের আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে বলা হচ্ছে, ‘জামায়াতকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’।
এ সংক্রান্ত কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এবং এখানে।
তবে প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে গত দ্বাদশ নির্বাচনে ৬৮ আসন ইঞ্জিনিয়ারিং জামায়াতকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে মর্মে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এমন মন্তব্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
মূলত গত ২ মার্চ চ্যানেল ওয়ানে প্রচারিত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এক সাক্ষাৎকারের পরে বিষয়টি আলোচনায় আসে। চ্যানেল ওয়ানে প্রকাশিত মূল সাক্ষাৎকারটি ছিল ২৫ মিনিট ৪২ সেকন্ডের।
চ্যানেল ওয়ানের হয়ে সাক্ষাতকারটি নেন সাংবাদিক নয়ন আদিত্য। যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নানা কাজ ও উদ্যোগের ব্যাপারে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সাংবাদিক নয়ন আদিত্য প্রশ্ন করেন “দ্বিতীয়ত হচ্ছে আমরা যেটি দেখলাম যে আপনারা যখন ৫ আগস্টের পর আপনারা ক্ষমতায় আসলেন ৮ আগস্টে। তারপর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মব সারা দেশে বিভিন্ন ফরম্যাটে। এর মধ্যে যেটি আসলো মাজার আসলো, বাউলদের ওপর নির্যাতন আসলো, নারীদের নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তি করা শুরু হলো। ওই সময় আপনারা কিভাবে ট্যাকল করেছেন আসলে কী ছিল আপনাদের?”
প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, ‘‘একটা শক্তি আছে সেই শক্তি এর আগেও নারী নীতি বদলে দিয়েছে। সেই শক্তি আমাদের সময়ে কোনো নীতি বদলাতে পেরেছে যেটা নারীর অধিকার হরণ করে?’’
সে অংশে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিক নয়ন আদিত্য বলেন, ‘‘সেই শক্তির একটা পার্ট এখন… (বিরোধীতায় বা বিরোধী দলে এমন একটা শব্দ উচ্চারণ করেছেন যা অস্পষ্ট)’’
উত্তরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘‘সেই শক্তির একটা পার্ট যদি বিরোধী দল হয়েও থাকে আমার এবং আপনার কাজ হবে তাদের রাজনীতির যেটুকু অংশ নারীবাদের, নারীর ক্ষমতায়নের, নারীর সমান অংশ গ্রহণের বিরুদ্ধে সেটুকুন নিয়ে কাজ করা। কখনো যেন এজাতীয় শক্তি মেইনস্ট্রিম না হতে পারে আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি। তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি।’’
এ ব্যাপারে দ্য ডিসেন্ট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘‘এখানে আমার বক্তব্যে নির্বাচনের কথাই তো আসে না। উপস্থাপক কথার মাঝখানে হঠাৎ নির্বাচনের কথা তুললে আমি বলেছি বিরোধী দলের যেইটুকু নারীর ক্ষমতায়নের সাথে সম্পৃক্ত, আমরা সেটা নিয়ে কাজ করব। আমি কোনও দলের নাম উচ্চারণও করি নাই, আর বিরোধী দল তো অবশ্যই মেইনস্ট্রিম। সুতরাং যেটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে তা তো অবান্তর। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, জামায়াতের নাম দিয়ে প্রচার করছে, যা অনাবশ্যক বিভ্রান্তি তৈরি করছে।’’
‘জামায়াত ১৬৮ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতো সেটা ইঞ্জিনিয়ারিং করে ৬৮ আসন করা হয়েছে’—এমন মন্তব্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘‘এরকম কোনও বক্তব্য বা এর ধারে কাছের কোন বক্তব্যও আমি দেই নাই। ওই সাক্ষাৎকার ঘিরে নানা ফটোকার্ড বানানো হচ্ছে। একেক জন একেক রকম করে বানাচ্ছে।’’