জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা ও তা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হন। তাদের ন্যাশনাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ হামলার নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামসিল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও জাফর আহমেদ।
এ বিষয়ে জবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন বলেন, গত ২ মার্চ সাংবাদিক সমিতির ২০২৬ সেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই আজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন ছিল। কিন্তু গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) রাত থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আজ স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এরই মধ্যে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী এসে সমিতিতে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। বর্তমানে আমাদের ১০ সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই নির্বাচনের একক নেতৃত্ব নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাপ দেয় ছাত্রদল। পরে ছাত্রদলের প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে আজ জোরপূর্বক সমিতি দখল করতে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
হামলার বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমরা কেউ সমিতির অফিসে যাইনি। জুনিয়র কেউ কেউ যেতে পারে। আমরা কেউ হামলার সঙ্গে জড়িত না।
এ হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরকে দোষারোপ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বিকেলে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জকসুর জিএসের নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি দখলের চেষ্টা। হামলায় বেশ কিছু সাংবাদিক আহত হন। জবি সাংবাদিক সমিতি ভবনে শিবির নেতাকর্মীদের কাজ কি?
তিনি লেখেন, ‘৫টি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াত শিবিরের নিজ দলীয় ভিসি, প্রক্টর, নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ্য অনৈতিক সহযোগিতায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বেশ কিছু সাংবাদিক সমিতি তথা বেশ কিছু ভূঁইফোড় সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ভবনে জকসুর জিএস এবং শিবিরের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতি দখলের চেষ্টা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অভিযোগ প্রমাণিত হল।’