বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন ধরে তার নিয়মিত জাতীয় কাউন্সিল করতে পারছে না। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করে জাতীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচন করতে হয়। তবে সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ, সেই অনুযায়ী বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৭ বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে।
বিএনপির নেতারা দাবি করছেন, বিগত এক হাত বছরে একাধিকবার কাউন্সিল আয়োজনের চেষ্টা করা হলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের দমননীতি ও রাজনৈতিক বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ও নতুন কাউন্সিল আয়োজন করার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় অপরিহার্য।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কাউন্সিল হয়নি; যদিও কিছু পদে পদায়ন করা হয়েছে। তবু কেন্দ্রীয় কমিটির শতাধিক পদ এখনও শূন্য। এর মধ্যে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির মোট ১৯টি পদের মধ্যে চারটি পদ এখনও খালি।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যান প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে সর্বময় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় করার দায়িত্বে থাকেন। এছাড়া তিনি জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সভার সভাপতিত্ব করেন, শূন্য পদ পূরণ ও নতুন কমিটি গঠন করতে পারেন।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান শূন্য থাকলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর থেকে তারেক রহমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।
গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে, চেয়ারম্যান অপসারণের জন্য জাতীয় কাউন্সিলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের দাবি এবং তিন-চতুর্থাংশ ভোট প্রয়োজন। এ ছাড়া, কাউন্সিল আয়োজন ও নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন পর্যন্ত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দায়িত্বে বহাল থাকেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিয়মাবলী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য পদ কাউন্সিল আয়োজনকে জটিল ও বাস্তবে কঠিন করে দিয়েছে।
বিএনপির সপ্তম কাউন্সিল কবে জানতে চাইলে বিএনপি নেতারা জানান, যথা সময়ে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে কেউ সুর্নিদিষ্ট তারিখ বলতে রাজি হয়নি। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলেও ইঙ্গিত করেন বিএনপি নেতারা।
গণতান্ত্রিক ধারায় এভাবে কাউন্সিল ছাড়া দল পরিচালনা গ্রহণযোগ্য কিনা? এমন প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান বিএনপি নেতারা।