Image description

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার আলমপুর গ্রামে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রায় ১০ দিন ধরে পুরুষশূন্য পুরো গ্রাম। মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যসহ অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষকে অজ্ঞাতনামা আসামি করায় গ্রামের সাধারণ বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।

 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে শ্রীনগর থানার একটি দল এজাহারভুক্ত আসামি মনির হোসেন আশিককে গ্রেপ্তার করতে আলমপুর গ্রামে অভিযান চালায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সদস্যরা আশিকের বাড়িতে যান।

 

একপর্যায়ে একটি ঘর থেকে ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু হলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছে রাতের অভিযানের কারণ জানতে চান। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ সদস্যরা সরে গিয়ে কাছাকাছি অবস্থান নেন। এ সময় সংঘবদ্ধ লোকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এতে এসআই গোলাম মোস্তফা, কনস্টেবল আব্দুল মালেক ও সুরুজ মিয়া আহত হন। পরে তারা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থানায় খবর দেন।

 
 

 

খবর পেয়ে পুলিশের আরেকটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

এ ঘটনায় এএসআই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ইউপি সদস্য মো. ইউসুফ খানকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়।
এ মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে আলমপুর গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ সদস্য এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে ১০ দিন ধরে গ্রামটি কার্যত পুরুষশূন্য।

 

স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, যারা দোষ করেছেন, তাদের শাস্তি হোক। কিন্তু নিরীহ মানুষও আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।

 

একই গ্রামের আল আমিন বলেন, অজ্ঞাতনামা আসামি বেশি থাকায় সবাই ভয়ে আছে। ফলে গ্রামের পুরুষরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার আগের দিন দুই যুবককে মাদকসহ আটক করে এলাকাবাসী মারধর করে এবং পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। ওই ঘটনার জেরে রাতে পুলিশ আসায় ভুল বোঝাবুঝি থেকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই তারেক আহমেদ বলেন, প্রধান আসামি ইউসুফ খানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন।

 

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।