রমজানের দুপুর, ক্লান্ত শরীর আর ক্ষুধার তাগাদা থাকা সত্ত্বেও ৭০ বছর বয়সি আব্দুর রউফ একা একা নিজের ভাঙা ঘর সরাচ্ছেন। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়ী এলাকায় নদীভাঙনে এবার তিনি অষ্টমবারের শিকার। এ সময় পাঁচ সন্তানের কাউকে পাশে দেখা যায়নি।
হতাশা নিয়ে ভারী কণ্ঠে আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমাদের সব জমি নদীতে চলে গেছে। আজকের দিনও আমাদের জন্য রোজা আর ঈদের মতো। সরকারের উচিত আমাদের সাহায্য করা।’ রউফের মতো ৫৩ বছরের বিধবা রহিমা বেগমও নদীভাঙনের শিকার। সম্প্রতি তার শেষ আশ্রয়স্থলও নদীতে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনার ভাঙন রমজানের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে কয়েক একর ফসলি জমি, দেওয়ানগঞ্জ-খোলাবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ও কয়েকটি স্থাপনা বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, যমুনার বাম তীরে হঠাৎ চর জেগে ওঠায় ডান তীরে দেড় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক বলেন, ‘ফসল, ঘর, জমি সব শেষ। আমাদের জীবন দুঃখেই শেষ হয়ে গেছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী শামীম বলেন, ‘নির্বাচনের সময় নেতাদের দেখা গেছে, এখন কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। আমরা চাই নদী ভাঙন রোধ করে থাকার ব্যবস্থা করা হোক।’
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও সরকারি প্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও ক্লিনিক নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ খোঁজ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে জামালপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘১৫৭ মিটার প্রোটেকশন ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। আরও ২০২ মিটার কাজের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।’