ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও বিভিন্ন রুটে ইউরোপের বিমান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। কেননা ইউরোপের বিমানগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকেই ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করে। এদিকে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। চলমান সংঘাত ও বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার পর্যন্ত মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা যেমন সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও পড়েছেন বিপাকে। বিভিন্ন দেশ থেকে তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। অধিকাংশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট স্থগিত এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকায় তাদের অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার, আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
দেশে আসার জন্য অপেক্ষায় কাতারে আটকা পড়া তানভির হাসান যুগান্তরকে বলেন, আমি ব্যবসার কাজে গত মাসে এখানে এসেছি। রোববার আমার টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যেতে পারছি না। কবে যেতে পারব দেশে সেটিও বুঝতে পারছি না। একই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের বিমানবন্দরেও। শত শত যাত্রী ট্রানজিট কিংবা সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের কারণে আটকা পড়েছেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকা পড়া শরিয়ত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, সোমবার তার ফ্লাইট ছিল এমিরেটস এয়ারলাইন্সে। কিন্তু সংস্থাটি বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, আপাতত সব ফ্লাইট স্থগিত। কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দ্রুত ফেরাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শত শত মানুষ দুর্ভোগে আছেন। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরতে না পারলে তারা নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সোমবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার। মধ্যপ্রাচ্যর বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়; ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রবাসীরাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি। আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ বলেন, ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ১০২টি। কিছু ফ্লাইট ঢাকাও ছেড়েছে বলে জানান তিনি। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ সোমবার বাতিল হয়েছে ৩৯টি ফ্লাইট। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের পাঁচটি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) দুটি, ফ্লাই দুবাইয়ের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) চারটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের (কুয়েত) দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত) আটটি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। তবে ওমান, সৌদি আরবসহ অন্যান্য গন্তব্যে সীমিত পরিসরে উড়োজাহাজ চলছে। তিন দিনে সব মিলিয়ে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ১০২টি। ইরানে হামলার প্রথম দিনে শনিবার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থার ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। পরদিন রোববার বাতিল হয় ৪০টি ফ্লাইট। আর সোমবার ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হলো। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকেও আরও ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মীরা। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে তারা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের নতুন টিকিট ইস্যু কিংবা রিফান্ড পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সরেজমিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীরা টার্মিনালজুড়ে অপেক্ষা করছেন। সবার চোখেমুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে যাত্রীদের মধ্যে। কুয়েত প্রবাসী যাত্রী ইব্রাহিম শেখ যুগান্তরকে বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ আছে মাত্র তিন দিন। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা অস্পষ্ট। আরেক যাত্রী তফাজ্জল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এসে যদি শুনি ফ্লাইট বন্ধ, তাহলে এটা আমাদের জন্য বড় ভোগান্তি। এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করলে একেক সময় একেক তথ্য দেয়। কেউ পরিষ্কারভাবে কিছু বলছে না।
মধ্যপ্রাচ্য হয়ে অন্য দেশে যাওয়া ট্রানজিট যাত্রীরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নির্ধারিত সংযোগ ফ্লাইট ধরতে না পারায় অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আরেক যাত্রী বলেন, রোববার সকালেও এসেছিলাম। সারাদিন বসে থেকে রাত ১টায় বাড়ি ফিরে গেছি। আজ (সোমবার) আবার ডেকেছে, বলেছে আজ হবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানাল, ফ্লাইট বাতিল। আমার ফ্লাইট ছিল ইউএস-বাংলার, কাতার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেক প্রবাসী সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষের পথে। আমরা একটি বিশেষ সেল গঠন করেছি। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে বা মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে, তাদের তথ্য পাওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করছি আমরা এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় যাত্রীদের দাবি, বিমানবন্দরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বিশ্রামের ব্যবস্থা ও স্পষ্ট তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা করা হলে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
শাহ আমানতে বাতিল হয়েছে ২৮ ফ্লাইট : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বহির্গমন ও আগমনি মিলিয়ে এসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ছয়টি, রোববার ১৪টি ও সোমবার দুপুর পর্যন্ত আটটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তারা জানান, সোমবার বিকেলের সূচিতে থাকা এয়ার আরাবিয়ার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত দুটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ডিপার্চার ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে সালাম এয়ারওয়েজের ওভি-৪০৩ ও সোমবার সকাল ৮টায় ওভি-৪০১ ফ্লাইট দুটি মাস্কাট থেকে চট্টগ্রাম এসে পৌঁছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় একই এয়ারলাইন্সের ওভি-৪০২ ফ্লাইটটি চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে বাতিল ৩৪০০ ফ্লাইট : উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সোমবার পর্যন্ত ৩৪০০ ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে আনুমানিক তিন লাখ যাত্রী ওই অঞ্চলে আটকে পড়েছেন। দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো প্রধান বিমানবন্দরগুলো কার্যক্রম স্থগিত করায় এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের ওপরও। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ৩৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে সহায়তার জন্য দল পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর এই বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সংযোগকারী প্রধান কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে। ফলে এই হাবগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে এক ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা অনেকটা ডমিনো ইফেক্টের মতো সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার-পররাষ্ট্রমন্ত্রী : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা-পালটাহামলার বিষয়ে বাংলাদেশের যে অবস্থান, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তা নেওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে সরকারের বিবৃতিতে ইরানে হামলার বিষয়ে নিন্দা না জানানোর প্রেক্ষাপটে ওঠা বিতর্কের মধ্যে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।
এ বিষয়ে দুদিন দুটি বিবৃতি দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে খুব সোজা। প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা আমাদের জনগণ যারা, আমাদের নাগরিক যারা ওই অঞ্চলে আছেন, তাদের স্বার্থ রক্ষা এক নম্বর কথা। আর আমরা মনে করি না যে, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমাধান। আমরা চাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে একটা আলোচনার মাধ্যমে, কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এই সমস্যাটার সমাধান হোক।
ইরানে হামলা-পালটাহামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়ে রোববার বিবৃতি দেয় সরকার। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি। শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মী নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতনিও প্রাণ হারিয়েছেন।
আক্রান্ত দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ ইরানের এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে রোববার পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। ওইদিন বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সরকারের ওই বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ না করায় সমালোচনা করেন অনেকে। সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন আরেকটি বিবৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনা জেনে বাংলাদেশ মর্মাহত। সেখানে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হত্যার ঘটনা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এরপর বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের নাগরিকরা আক্রান্ত হলে, সেটা যেখানে হোক, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। আমাদের সবচেয়ে বড় জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে জনগণ। আমরা আশা করি, এই সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না, কিংবা আর কেউ আহত হবেন না। কিন্তু সেরকম অবস্থা হলে আমাদের যা যা কর্তব্য, তা সবাই পালন করব।
এদিন কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা সবাই সেসব দেশে আমাদের নাগরিক যারা আছেন, তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।
যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাদের লাশ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই। আমরা সবসময় নিয়ে আসি। এটা আমাদের পলিসি। কিন্তু এখন তো প্লেন চলাচল করছে না। সুতরাং এই সময়টুকু সেখানে রেখে দিতে হবে এবং এটা নিয়ে আমার সঙ্গে সেই দেশের মন্ত্রীদের কথা হয়েছে, তারা সব ব্যবস্থা করছেন।
বাংলাদেশিদের কেউ ফিরতে চাইলে তাদের দেশে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সেটা প্রয়োজন হলে, যা করার তাই করবে সরকার।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাই সরকারের সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার-পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিদেশগামী ও সেসব দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের যেসব নাগরিক বিভিন্ন দেশে যেতে পারেননি কিংবা পথে আটকা পড়েছেন, তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিমানবন্দরে সরাসরি কাজ করছে, যেন যাত্রীরা নিরাপদ থাকতে পারেন এবং প্রয়োজনে হোটেলে অবস্থানের সুযোগ পান। যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বা জরুরি ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা যেন এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পান এবং দুর্ভোগে না পড়েন সে লক্ষ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।