Image description

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

আঙ্কারায় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেন, “আমরা শান্তির পক্ষে। আমরা চাই রক্তপাত বন্ধ হোক, অশ্রুধারা থেমে যাক এবং আমাদের অঞ্চল বহু বছর ধরে যে স্থায়ী শান্তির জন্য আকুল, তা অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হোক।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের কড়া সমালোচক এরদোয়ান বলেন, শনিবারের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা, যা এই যুদ্ধের সূচনা করে এবং তেহরানের পাল্টা হামলার জন্ম দেয়—তা ছিল ‘অবৈধ’।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া এবং আমাদের অঞ্চলে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সব পর্যায়ে আমাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করব।

ইরানে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক মানুষ ও নিষ্পাপ শিশুদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, এ দৃশ্য তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে।

ন্যাটো জোটভুক্ত মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ তুরস্কের ইরানের সঙ্গে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ প্রায় অর্ধশত শীর্ষ নেতা নিহত হন।

ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তেলআবিবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আক্রান্ত স্থাপনার মধ্যে হাসপাতাল, স্কুলসহ অনেক বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে।

এর মধ্যে মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

অন্যদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছে।

আহত হয়েছে ১২১ জন। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাতে আরব আমিরাতে ৩ জন, কুয়েতে ১ জন, বাহরাইনে ১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও আছেন।