বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে পরকীয়ার অভিযোগে সালিশ বৈঠকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে পেটানোর ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১ মার্চ) রাতে সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজলাঠিমারা গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল স্থানীয় বেল্লাল (৩৫) নামের যুবকের সাথে। রোববার (১ মার্চ ) রাতে ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রতিবেশীরা বুঝতে পেয়ে তাকে আটক করে। এর কিছুক্ষণ পরই এ নিয়ে সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগির আলম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশে উপস্থিত লোকজনের সামনে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ( ভারপ্রাপ্ত) ছগির আলমের নির্দেশে গৃহবধূর পিতা জুতা দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। এদিকে চেয়ারম্যানের নির্দেশে জুতা দিয়ে পেটানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাবুল মিয়া বলেন, গৃহবধূর সাথে বেল্লালের দীর্ঘ দিনের প্রেম। প্রায়ই দেখা করত তারা। আজ স্থানীয় লোকজন তাদের হাতেনাতে ধরেছে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানকে খবর দিলে তিনি এলাকাবাসীর সামনে বিচার করেন।
এ বিষয়ে সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগির আলম বলেন, ‘পরকীয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। পরে সালিশের মধ্যে উপস্থিত লোকজনদের শান্ত করতে গৃহবধূর বাবা তার মেয়েকে জুতা পেটা করেন।’
এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সদ্য বিদায়ী কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রুস্তম আলী হাওলাদার বলেন, এ কাজটি তিনি দায়িত্বে থেকে করতে পারেন না। বিষয়টি দুঃখজনক।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মংচেনলা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি একটি ভিডিও দেখেছি জুতাপেটা করার। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।