Image description

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আজ সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কর্তৃক ইসরাইল এর রাজধানী তেল আবিবে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, হাইফায় নিরাপত্তা ও সামরিক কেন্দ্র এবং পূর্ব জেরুজালেমে একটি স্থাপনায় হামলা চালানোর পর সর্বত্র এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হামলার পর আইআরজিসি বলছে, নেতানিয়াহুর পরিণতি এখন ‘অনিশ্চয়তার মেঘে আচ্ছন্ন’। ইরানের এমন মন্তব্যের পরও ইসরাইল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বা বিবৃতি দেয়নি। ফলে ইরানের দাবি কি সত্যি? এমন প্রশ্ন মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্ববাসীর মনে দোলা দিচ্ছে।

ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জায়নিস্ট শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং তাদের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দফতরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’ এ হামলায় খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানায় আইআরজিসি। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হামলার খবর মিললেও, সে সময় নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন তা জানা যায়নি। ইসরাইলি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, লক্ষ্যভিত্তিক ও আকস্মিক এ হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। হামলার পর নেতানিয়াহুর পরিণতি এখন ‘অনিশ্চয়তার মেঘে আচ্ছন্ন’। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, একই স্থানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু বেইত শেমেশে তার নির্ধারিত সফর বাতিল করেন। নেতানিয়াহুর সবশেষ প্রাপ্ত ভিডিওটি প্রায় কয়েক মিনিটের একটি বার্তা, যা পাঁচ ঘণ্টা আগে প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকে তার আর কোনো নতুন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে সোমবার জেরুজালেমের আকাশে নতুন করে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন সংবাদ সংস্থা এএফপি’র সাংবাদিকরা। এর আগে ইরান থেকে ছোড়া নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা জানায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অল্প কিছু সময় আগে আইডিএফ ইরান থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। হুমকি প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লায়েন অঞ্চলজুড়ে সার্বভৌম ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে ইরান ও তার মিত্রদের ‘বেপরোয়া ও নির্বিচার হামলা’র নিন্দা জানিয়েছেন। সাইপ্রাসে একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ও সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সংঘাতের বিস্তার রোধ ও উত্তেজনা প্রশমনে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অঞ্চলের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি অভিযানে ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে।

শীর্ষনিউজ/