‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের আহ্বান ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্ররোচনার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার দ্রুত বিচার ও নির্ধারিত সময়ে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ থেকে তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালাম বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার স্বার্থে মামলাটি বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। সোমবার (২ মার্চ) নতুন আদালতে মামলাটির কার্যতালিকায় প্রথম দিন থাকলেও শুনানি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বলেন, নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আগামী ৯ মার্চ অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাব্বী আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর এক জুম সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেন। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে দেশবিরোধী মন্তব্য করেন এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সভার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় মোট ২৮৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫৫ জন পলাতক বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে চলে যাওয়ার পর সেখানেই অবস্থান করছেন বলে মামলার নথিতে বলা হয়েছে।
এ মামলায় বর্তমানে সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে খুলনার যুবলীগ নেতা পারভেজ খান ইমন ও ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর বিভিন্ন শাখার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও আছেন। গত ২১ জানুয়ারি থেকে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
গত বছরের ২৭ মার্চ সিআইডি প্রথমে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ৩০ জুলাই ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত ১৪ আগস্ট পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং ১১ সেপ্টেম্বর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।
বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে গত বছরের ১১ নভেম্বর মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছিল। এখন আদালত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অভিযোগ গঠন ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৯ মার্চের শুনানিকে কেন্দ্র করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।