ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী, কুড়িগ্রাম ও রংপুরের ৪টি আসনে ভোটে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন বিএনপির আরো চার প্রার্থী।
সোমবার (২ মার্চ) আবেদন চারটি গ্রহণ করেন বিচারপতি জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ। পাশাপাশি ৪টি আসনের সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ব্যালট পেপার, ফলাফল শিটসহ অ্যন্যান্য নথিপত্র যথাযথ প্রক্রিয়ায় হেফাজতে রাখতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আবেদনকারীরা হলেন রাজশাহী-১ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দিন।
আবেদনকারীদের অভিযোগ তুলে ধরে তাদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইন অনুসারে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটের ব্যলট পেপারসহ অন্যান্য নথিপত্র হেফাজতে রাখতে। শুনানির যেকোনো পর্যায়ে তলব করলে তা যেন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।’
আবেদনকারীদের খরচে বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে আদালতের এই আদেশ দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই আইনজীবী।
রাজশাহী-১ আসনে মো. শরীফ উদ্দিনকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান। কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আতিকুর রহমান মোজাহিদ। রংপুর-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলামকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুল আমীন এবং রংপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসাকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন।
এর আগে গতকাল রবিবার রাজশাহী-৪ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর ও পাবনা-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিবের আবেদনও শুনানির জন্য গ্রহণ করে একই আদেশ দেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আরও ৪টি আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করে আদেশ দেন উচ্চ আদালত। এই চার আবেদনকারী হলেন শেরপুর-১ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন, ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লাহ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী মো. আবদুর রহিম সরকার।