Image description
চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি

চাঁদার দাবিতে চট্টগ্রাম নগরে পুলিশের পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে দুই দফায় গুলির ঘটনাকে নিজেদের ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার।

রবিবার (১ মার্চ) রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব কথা বলেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, “নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা দূর করে আস্থা অর্জনের জন্য অভিযান শুরু করেছি আমরা। নগরীর ১০টি জায়গায় একসঙ্গে অভিযান শুরু হয়েছে। তবে, ওই বাসা লক্ষ্য করে দুই দফায় গুলির ঘটনা নিয়ে নগরবাসীর শঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যদি বলেন ব্যর্থতা, সেটা আমরা মেনে নিয়েছি।”

সংবাদ সম্মেলনে গুলি বষর্ণকারীদের শনাক্ত করার দাবি করে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তিরা পাহাড়ি এলাকায় চলে গেছে। তাদের আস্তানায় গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তারা অস্ত্র নিয়ে আসেনি। অস্ত্রগুলো শহরের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা সেখানেও অভিযান চালাবো।”

সংবাদ সম্মেলনের পর রাতে পুলিশের বিভিন্ন দল নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলি করা হয়। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা গুলি ছুড়েছে। তবে এতে হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই বাসায় গুলি করেছিলো সন্ত্রাসীরা। তখন গুলিতে বাসার জানালার কাঁচ ভেঙে গিয়েছিলো। বাসার দরজায়ও গুলি লাগে। এরপর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। পুলিশি পাহারার মধ্যেই বাসাটিতে আবারও গুলির ঘটনায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ২ জানুয়ারিও তাদের বাসাটিতে গুলি করার ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল পুলিশ। তবে, এ ঘটনায় কোনও মামলা করা হয়নি।