ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন উঠছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। শনিবার (দুপুর পৌনে ১২টা) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ইকরার মৃত্যুর পরপরই তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, জাহের আলভীর এক সহকর্মী অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যার জেরে মানসিক চাপে পড়ে ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন।
তবে ইকরার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সামিয়া আলম বলছেন, ‘তিনি আত্মহত্যা করার মতো মানুষ ছিলেন না।’
জানা গেছে, ইকরা, সামিয়া আলম ও খাদিজা লুপিন— তিনজনের বন্ধুত্ব ১১ বছরের। তাদের একটি ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ঘটনার দিন সকালেও সেখানে কথা হয়েছিল।
সামিয়া আলম বলেন, ‘আমরা ২৪ ঘণ্টাই এই গ্রুপে কানেক্টেড থাকি। ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা মেসেজ করল যে নেপাল যাবে। ওই মেয়ের চুল টেনে ছিঁড়বে। আমরা ভাবলাম যে এখন ওর মাথা গরম আছে।
এরপর আলভীর সহকারী অর্কর কাছ থেকে নিশ্চিত হন সামিয়া। ঘটনার সময় ইকরার সন্তান রিজিক বাসায় ছিল এবং ইকরার সঙ্গে আলভী ফোনে কথা বলছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামিয়া বলেন, ‘যত দূর জানি, ইকরা এরই মধ্যে রুম শিফট করেছে। আলভীর বাংলাদেশে আসার পর তারা একটা সিদ্ধান্তে যাওয়ার কথা। বলছিল, ‘আমি আলভীকে ডিভোর্স দিয়ে দেব।’ বন্ধুদের মধ্যে আলাপ যা হয় আরকি। এরপর একটা ব্যবসা শুরু করবে। রিজিককে ওর বাবার কাছে রাখবে নাকি ওর কাছে—কিভাবে কী করবে, এসব নিয়েও আলাপ করেছে। এটা আমরা নিশ্চিত, ইকরা মোটেও সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। ওই সময়টায় ফোনে আলভী কী এমন বলেছিল যে ইকরা তা সহ্যই করতে পারেনি! আমরা আসলে কেউই কিছুই জানি না। এটা অবশ্যই জানা দরকার।’
আজ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ইকরার ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে শুটিংয়ের কাজে নেপালে থাকা জাহের আলভীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে আজ।