Image description

রাজধানীতে মানুষের কাটা হাত, পা, মস্তক ও ড্রামভর্তি দেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের পর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাহীন আলমকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

রোববার (১ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

পুলিশ জানায়, অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর সাত টুকরা করেন তারই রুমমেট শাহীন। হত্যার পর নিজেকে বাঁচাতে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন শাহীন। নিহত ওবায়দুল্লাহ রাজধানীর একটি হোমিও ক্লিনিকে মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

 

হাত-পা উদ্ধারের রহস্য উদ্‌ঘাটন

 
 

 

পল্টন থানা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত পাশ থেকে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে খণ্ডিত একটি পা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে বায়তুল মোকারমের স্টেডিয়ামসংলগ্ন গেটের পাশ থেকে দুটি হাত, কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে একটি পা উদ্ধার করা হয়। তখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো কূলকিনারা পায়নি পুলিশ।

 

রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পল্টন মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতকের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর শনিবার বিকেল ৩টার দিকে মতিঝিল থানাধীন হীরাঝিল হোটেলের সামনে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া দেওয়া ভিত্তিতে মাতুয়াইল ময়লার ভাগাড় হতে খণ্ডিত মস্তক, আমিনবাজারের সালেহপুর ব্রিজের নিচ থেকে কোমরের একটি অংশ উদ্ধার করা হয় এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে কবি জসীমউদ্দীন রোডের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ভিকটিমের মোবাইল ফোন এবং লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত সাইকেল উদ্ধার করা হয়।

 

অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে হত্যা

 

গ্রেপ্তারকৃত মো. শাহীন আলম তিন মাস আগে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে গুলিস্তানের একটি হোটেলে কাজ নেন। সেখানে ২০ দিন কাজ করার পর বেতন কম হওয়ায় সে চাকরিটি ছেড়ে দেন। এরপর বাল্যবন্ধু মারুফের কমলাপুরের বাসায় ওঠেন। মারুফ হবিগঞ্জে চলে গেলে শাহীন গত দুই মাস ধরে ভিকটিম ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে থাকা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘হীরাঝিল হোটেল’-এ কাজ শুরু করেন।

 

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শাহীন হীরাঝিল হোটেল থেকে বাসায় ফেরার পথে ওবায়দুল্লাহ ফোন করে সিগারেট আনতে বলেন। শাহীন টাকা নেই বললে ওবায়দুল্লাহ তাকে টাকা দেন এবং তিনি সিগারেট এনে দেন। কিছুক্ষণ পর ওবায়দুল্লাহ তাকে দিয়ে পুনরায় রুটি ও কাবাব আনতে বলেন। রমজান মাসে ইফতারের পর ছয়তলা থেকে বারবার নিচে নামায় শাহীনের বিরক্তির উদ্রেক হয়। রাতে শাহীন ঘুমানোর চেষ্টা করলে ওবায়দুল্লাহ উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলা শুরু করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীন রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করেন।

 

এ ছাড়া ওবায়দুল্লাহর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাবে শাহীন আলম আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শাহীন নিজেকে বাঁচানোর জন্য দেহটিকে খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেন।

 

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।