Image description

সিলেট সফরে এসে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেননি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিমানবন্দরে তাকে আনতে যাওয়া সরকারি গাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘১২ তারিখের পর চড়ব।’

 

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবার সিলেটে আসেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বিমানযোগে সিলেটে বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার আগে থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় শফিকুর রহমানের জন্য অপেক্ষায় ছিল সিলেট জেলা প্রশাসনের একটি গাড়ি।

 

তবে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ সরকারি গাড়ি দেখে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা কি সরকারি গড়ি? আমি ১২ তারিখের পরে চড়ব। আপনারা এসেছেন, আমি কৃতজ্ঞ। আমি পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখের পর চড়ব।’

 

এদিন সকালে সিলেটের জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষাশিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শফিকুর রহমান। এরপর নগরের কুদরতউল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

 

 

বিকেলে তিনি সিলেট প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এবং পরে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

 

প্রেস ক্লাবে ইফতার মাহফিলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের দায়িত্ব হচ্ছে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করার সুবিধা তৈরি করে দেওয়া। তারা যতটা সুবিধা তৈরি করে দেবে, দেশ ততটাই লাভবান হবে। সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরে, সংঘাতের মধ্যে দেশের কোনো উপকার হবে না। বরং যদি সত্যিকার অর্থে জনগণকে ধারণ করে সমন্বয় করে, সেটাই জনগণকে উপকার দেবে।

 

জামায়াত আমির বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বিশ্বে এটি হচ্ছে এসেন্স অফ ডেমোক্রেসি। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু আমরা শিখে এসেছি, বিরোধী দল মানে সবকিছুতে বিরোধিতা। আর সরকারি দল মানে সবকিছুতে দমন। ওই দুইটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দমনও চলবে না, আর অন্ধ বিরোধিতাও চলবে না। এই দুইটার সমন্বয় চাই আমরা দেখতে।’

 

সিলেটে ইতিবাচক ও সমন্বয়ের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সংসদে গেলে বা সিলেটে এলে আমার পরিচয় একটাই, আমি আপনাদের মানুষ।

 

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যাশিত ফল না এলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি—এটাই ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত।

 

সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলবেন। আমার বিরুদ্ধেও কিছু পেলে বলবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংবাদে ‘টুইস্ট’ এলে সমাজ বিভ্রান্ত হয়। মিডিয়ার ভূমিকা হতে হবে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ। সরকারের ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, অকারণ প্রশংসাও ক্ষতিকর। নিউজ আর ভিউজ আলাদা। নিউজে যা আছে তাই দিন, ভিউজ সমাজ নেবে কি নেবে না, সেটা সমাজের সিদ্ধান্ত।

 

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি, এনবিআর সদস্যসহ সিলেট প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।