‘হঠাৎ চারপাশ কেঁপে উঠল। ড্রেসিং টেবিল, ফ্রিজ সব দুলছে। মুহূর্তের মধ্যে বুঝলাম, এটা ভূমিকম্প। কয়েক সেকেন্ড হলেও সময়টা যেন থমকে গিয়েছিল।’ সোহাগ হোসেন যখন এশিয়া পোস্টের কাছে কথাগুলো বলছিলেন, চেহারায় তখন তার ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। তিনি সাতক্ষীরা শহরের বাসিন্দা। তার বাসস্থান থেকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প ছিল ২৯ সেকেন্ডের।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৪। কেন্দ্রস্থল ছিল সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়ন এলাকায়। উৎপত্তিস্থল জেলার ভেতরে হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশি এবং ঝাঁকুনিও ছিল প্রবল।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। জুমার নামাজের সময় হওয়ায় অনেক মুসল্লি মসজিদে ছিলেন। হঠাৎ মসজিদটি দুলতে শুরু করলে অনেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।
শহরের বাসিন্দা সোহাগ হোসেন বলেন, জুমার নামাজ আদায় করে বাসায় ফিরেছি। মাত্র পাঞ্জাবি খুলেছি, এমন সময় জীবনে প্রথম এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম।
শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা রোকসানা আক্তার বলেন, হঠাৎ মনে হলো ঢলে পড়ছি। বুঝতে পেরে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যাই।
তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও জেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মিলেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা শ্মশানঘাটের প্রাচীরের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামে কয়েকটি কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ধসে পড়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক বাড়ির দেয়ালে ফাটল ধরেছে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফরোজা আক্তার জানান, মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।