Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে বাধা বা সহিংসতার বড় ঘটনা ঘটেনি। তবে ভোট গণণা, রেজাল্ট প্রস্তুতি ও ঘোষণার সময় ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ মহানগর শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, অনেক সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী এক-দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছে। এরকম আসনের সংখ্যা পঞ্চাশটির ওপরে হতে পারে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন এবং বিধি অনুযায়ী গঠিত নির্বাচনের ট্রাইব্যুনালে আমাদের অভিযোগগুলো উপস্থাপন করবেন। পাশাপাশি সেইসব আসনের ভোট পুনর্গণনা এবং যে অনিয়ম হয়েছে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানাবেন।

 

জামায়াত সবসময় নিয়মতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে জানিয়ে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা কোন অনিয়মতান্ত্রিক বা হঠকারি পদ্ধতিতে সহিংসতা বা চরমপন্থাকে ইসলামী পথ হিসেবে বিবেচনা করি না। তিনি বলেন, দেশের জনগণ বিগত নির্বাচনে যেভাবে দাড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করেছে, তাতে আমরা শুধু বিস্মিত হইনি; দেশের মানুষও, মিডিয়াও বিস্মিত হয়েছে। যারা শত্রুতা করেছে, তারা ও বিস্মিত হয়েছে যে জামায়াতে ইসলামীকে এত ভোট দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকে রাজধানী থেকে ছুটি নিয়ে যে সকল সমর্থকরা ট্রেনের ছাদ, লঞ্চ, নৌকা ও বাসে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছিল, তা অভূতপূর্ব দৃশ্য তৈরি করেছিল, বাংলাদেশে এর আগে এমন পরিস্থিতি কেউ দেখেনি।

দাড়িপাল্লার স্লোগানে মুখরিত হয়ে তারা রাজধানী ঢাকা ত্যাগ করেছিল। ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি এবং দাড়িপাল্লার পক্ষে প্রাপ্ত রায় আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। ভোট গণনার সময়ও সারা দেশ থেকে খবর পাওয়া গিয়েছিল, একের পর এক আমাদের আসন থেকে বিজয়ের সংবাদ আসতে থাকল। এরপর প্রক্ষান্তরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিডিয়ায় ফলাফল বন্ধ করা হয়।

 

আগামী দিনেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি অনুসরণ করে আমরা সরকার এবং জনগণের পাশে থাকব।

তবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সততা, সরলতা, বিনয় ও ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করা যাবে না। যেসব ব্যক্তি মানুষের ওপর হামলা বা হুমকি দেখাচ্ছেন, আমরা সংযত থাকব। সরকারের শুরুতেই আমরা আদর্শের মোকাবেলা আদর্শ দিয়ে, চরিত্রের মোকাবেলা চরিত্র দিয়ে, নৈতিকতার মোকাবেলা নৈতিকতা দিয়ে এবং যুক্তির মোকাবেলা যুক্তি দিয়ে করব। কিন্তু সন্ত্রাস-সংহিংসতার ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শবান ও নৈতিক সদস্যরা কখনো সেই পথ বেছে নেবেন না- এটাই সরকারের প্রতি আমাদের অনুরোধ।

 

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশের সদস্য ও ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতে আমীর ড. মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, মিডিয়া বিভাগীয় সেক্রেটারি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং জেলা জামায়াতে আমীর আব্দুল করিম। এ সময় মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।