আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের (ওসিন্ট) ইউরোপ শাখা। একই সঙ্গে নিহত হন তার জামাতা নেদা মোহাম্মদ নাদিম ওরফে নিদা মুহাম্মদ। তিনি তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে তারা প্রাণ হারান বলে খবর ছড়িয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় আখুন্দজাদা ও দুপুরে তার জামাতা নিহতের দাবি করে ওসিন্ট।
ওসিন্ট ইউরোপের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের শীর্ষ এই নেতা কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন। পরে দাবি করা হয়, সীমান্ত সংঘাত বৃদ্ধির মধ্যে পাকিস্তানি বিমান হামলায় তালেবানের ভারপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী নেদা মোহাম্মদ নাদিম ওরফে নিদা মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন। তিনি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার জামাতা ছিলেন।
তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তালেবান সরকার বা পাকিস্তান সরকার এই দাবির পক্ষে কোনো বিবৃতি বা প্রমাণ দেয়নি।
২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করে তালেবান। আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও নীতিনির্ধারণী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
‘অপারেশন গজব লিল-হক’ নামে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তান। এর আগে কয়েক দিন ধরে দুদেশের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল। পাকিস্তানের এ অভিযান শুরুর পর দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তজুড়ে তীব্র সংঘর্ষে তালেবানের ২২৮ যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২৭ পাকিস্তানি আহত হয়েছেন।
তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দেওয়া হতাহতের এ সংখ্যার সঙ্গে তালেবান সরকারের তথ্যের বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। এর আগে তালেবান বলেছিল, তাদের মাত্র ৮ যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।