বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে রূপনগর-পল্লবীর কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা সবসময় রাজপথে ইনসাফের কথা বলেছে, যারা স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করেছে, যারা জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বুকে লালন করে- তাদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে। এই লড়াই দীর্ঘ। কিন্তু আমরা এই লড়াইয়ে বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যতদিন ইনসাফ কায়েম না হবে, যতদিন বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চলবে। এই সংগ্রামে আমরা আছি। আপনারা থাকবেন তো?
ডাকসু ভিপি ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো- এই পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, সেহরি, কিয়ামুল লাইল, তারাবিহর নামাজের পর এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শেষে আমরা আমাদের শহীদদের জন্য দোয়া করি। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের জন্য, বাংলাদেশের আজাদি আন্দোলনের সব শহীদের জন্য এবং শহীদ ওসমান হাদির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দোয়া করবো। আমরা কি পারবো? ইনশাল্লাহ, পারবো।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে আমি আবারও বলছি রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধির মাস, কোরআন নাজিলের মাস। আসুন, আমরা চেষ্টা করি পবিত্র কোরআন মাজিদ অর্থসহ অন্তত একবার খতম করার। প্রতিদিন কিয়ামুল লাইল আদায় করার চেষ্টা করি। সেই কিয়ামুল লাইলে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, একাডেমিক এবং জাতীয় সমস্যার কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরবো। আল্লাহ তা'আলা আমাদের এত দান করবেন, যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।
সাদিক কায়েম বলেন, আমরা সে সমাজের স্বপ্ন দেখি যেখানে সন্ত্রাস থাকবে না, চাঁদাবাজি থাকবে না, টেন্ডারবাজি থাকবে না, রাহাজানি থাকবে না। ইনশাল্লাহ, আমরা সেই সমাজ প্রতিষ্ঠা করবো। তরুণরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। কেউ যদি অন্যায়ভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়, তারা সফল হবে না ইনশাল্লাহ। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শহীদদের রেখে যাওয়া আমানত রক্ষা করবো। আমরা গড়ে তুলবো একটি নতুন বাংলাদেশ, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ। শহীদ ওসমান হাদির যে লড়াই, যে আজাদির লড়াই- সেই লড়াই আমরা জারি রাখবো, ইনশাল্লাহ।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন বলেন, বর্তমানে তরুণ প্রজন্ম নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। তারা সঠিক পথে চলে কি না। তাদের বন্ধু বাছাই সঠিক হয় কি না, বিপথগামী হয় কি না। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসৎ, স্খলিত ও দুর্নীতিবাজ তৈরি হচ্ছে। এটা উদ্বেগের। অভিভাবক ও জনমানুষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে ছাত্র সমাজের মধ্যে কাজ করছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তরুণ প্রজন্মকে সুপথে পরিচালিত করা এবং তাদের আগামীর বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য করে গড়ে তুলছে। সততা, আদর্শ ও যোগ্যতার কারণেই সারাদেশে প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা শিবিরকে তাদের সমর্থন দিয়েছে। অভিভাবকরাও শিবিরকে পছন্দ করছে।
তিনি বলেন, আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের আংশিক বিজয় হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বিজয় হয়তো হয়নি। ইনশাল্লাহ আমরা ধীরে ধীরে সেটাও পারবো।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা হাফেজ আবুল কালাম পাঠান, শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি হাফেজ আবু তাহের, সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ মো. নাছির উদ্দীন।