Image description
আহমাদ মুসাফা
 
বিএনপিকে আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়া ভাল একটা ট্র্যাপে ফেলেছে। এই ট্র্যাপটা বুঝতে হলে প্রথমে ভোট ব্যাংকের সমীকরণ কোন দিকে যাচ্ছে বুঝতে হবে।
 
জামায়াত দীর্ঘ সময় ধরে একটা ১০% দল ছিল। এবার জামায়াত-এনসিপির জোট ৪০% ভোট পেয়েছে। এই অতিরিক্ত ৩০% ভোট কোথা আসছে?
মূলত বিএনপির ভোট ব্যাংক থেকে। আওয়ামী লীগ থেকে কিছু আসছে, তবে সেটা শহরে বেশি, গ্রামে কম। ট্রেডিশনালি যেসব ফ্যামিলির মানুষেরা বিএনপিতে ভোট দেওয়ার কথা তাদের একটা বড় অংশ জামায়াত ও এনসিপিতে চলে গেছে। এই ৪০% এর কমপক্ষে অর্ধেক ভোটই আসলে বিএনপির ছিল।
 
এটা বিএনপির অনেক বড় লস।
 
এই মানুষগুলো বিভিন্ন কারণে বিএনপির ওপরে বিরক্ত হয়ে অন্য দলে চলে গেছে। তাদের কিছু মিনিমাম এক্সপেক্টেশন ছিল যেটা বিএনপি ফুলফিল করতে পারে নাই। এখন সরকারে আসার পর বিএনপির আরো বেশি ব্লান্ডার করছে এবং করবে। মিনিমাম এক্সপেক্টেশনের সাথে ব্যারিয়ার আরো বেশি বাড়বে। ফলে যে ভোট ব্যাংক ইতোমধ্যে বিএনপি ছেড়ে চলে গেছে তারা আর ফিরে আসবে না। বরং বিএনপি থেকে এই মাইগ্রেশন চলতেই থাকবে। বিএনপির কোর ভোট ব্যাংক সামনে আরো সংকুচিত হবে।
 
এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, বিএনপির বর্তমান ভোট ব্যাংক নির্বাচনে জেতার জন্য এখন আর এনাফ না। এবারের জাতীয় নির্বাচনে জেতার জন্য বিএনপিকে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের ওপরে নির্ভর করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট না পেলে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া খুবই কঠিন হত।
 
আওয়ামী লীগের সব ভোট পাওয়ার জন্য বিএনপির হাইকমান্ড লীগের সাথে আঁতাত করেছে। বিএনপির এম্পি প্রার্থীরা স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই প্রতিশ্রুতি বিএনপিকে রাখতে হবে। এবং তারা রাখছে।
 
কারণ জাতীয় নির্বাচনই শেষ না। সামনে স্থানীয় নির্বাচন আছে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আছে। লীগের ভোট ব্যাংক ছাড়াও প্রশাসন ও মিডিয়াতে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামীদের সমর্থন লাগবে। বিএনপি যদি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাহলে তারা ইমেডিয়েট ফল পাবে।
 
লীগ পুনর্বাসন এবং ইন্ডিয়ার সাথে হাত মেলানো ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোন উপায় নাই।
 
সমস্যা হচ্ছে যে, লীগ পুনর্বাসন ও ইন্ডিয়ার কাছে নতজানু হওয়াকে বিএনপির কোর ভোট ব্যাংক কখনই ভালভাবে নিবে না। এরা এটার ঘোর বিরোধী। তারা দেখবে যে, তারা যে রাজনীতিটা চায় সেটা তারা জামায়াত ও এনসিপি থেকে পাচ্ছে। এই ইস্যুটা যখন বড় হয়ে উঠবে, তখন বিএনপির ভোট ব্যাংক আরো অনেক বেশি হারে জামায়াত ও এনসিপির দিকে চলে যাবে।
বিএনপির এই লস যত হতে থাকবে, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা তত বেশি আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হতে থাকবে। তখন লীগের ভোট ধরে রাখতে হলে লীগের সাথে আঁতাত আরো বাড়াতে হবে, পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি আরো বেশি বেশি পূরণ করতে হবে। এগুলো দেখে বিএনপির ভোট ব্যাংক আরো কমবে। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের ওপর বিএনপির নির্ভরতা বাড়বে, আঁতাত ও পুনর্বাসন বাড়বে।
এইটা একটা সাইকেল।
 
একদিকে বিএনপি নিজে নিঃশেষ হতে থাকবে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ পরিপুষ্ট হতে থাকবে। বিএনপি এই দুষ্ট চক্রের ট্র্যাপে পড়ে গেছে।
বিএনপির ভুল রাজনীতির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ইন্ডিয়া প্ল্যান করে বিএনপিকে এই ট্র্যাপে ফেলছে। এখান থেকে কি বিএনপিকে উদ্ধার করা সম্ভব?
 
(লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া)