জাকিয়া রায়হানার বসবাস ঢাকার ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কে। তাঁর বাসায় তিতাসের গ্যাস–সংযোগ রয়েছে, সঙ্গে আছে ভোগান্তি। প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে তিনি রান্না করতে পারেন না। এই রমজান মাসে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
জাকিয়া প্রথম আলোকে বলেন, চার দিন ধরে বাসার কোনো ফ্ল্যাটে গ্যাস নেই। আশপাশের বাসায়ও নেই। মানুষের খুব কষ্ট হচ্ছে। এভাবে চলা যায় না।
গ্যাসের এ সংকট আজকের নয়, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। এ সময়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সংকট কাটানোর কথা বলে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অর্থনীতিতে সংকট তৈরি করেছে। বড় অঙ্কের দেনার মুখে পড়েছে দেশ, কিন্তু গ্যাস–সংকট আর কাটেনি।
রান্নায় যেমন গ্যাস লাগে, তেমনি শিল্প খাত, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে গ্যাস লাগে। পরিবহনের একাংশ চলে গ্যাসে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো। না পারলে মানুষের ভোগান্তি যাবে না। আবার শিল্প খাত গ্যাস না পেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বাধা তৈরি হবে। বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যপূরণও কঠিন হবে। দলটি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার কথা বলছে, যা এখন ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের সমান (১ হাজার বিলিয়নে ১ ট্রিলিয়ন)।
বর্তমান গ্যাস–সংকট
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সব খাত মিলিয়ে দেশে গ্যাসের চাহিদা দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা হয় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১১৫ কোটি ঘনফুট। এ কারণে বাসাবাড়ি, শিল্পে গ্যাস ও পরিবহনে গ্যাস-সংকট থাকছেই।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দেশে গ্যাসের ১১ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। সবচেয়ে বেশি ৪১ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ খাতে। শিল্পে (ক্যাপটিভসহ) যায় ৩৬ শতাংশ। সারে ৬ শতাংশ, সিএনজি খাতে ৫ শতাংশ ও চা খাতে ১ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার করা হয়। চাহিদা বুঝে বিদ্যুৎ থেকে কমিয়ে সারে, সার থেকে কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়ানো হয়। আবার সিএনজি স্টেশন বন্ধ করে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিএনপি সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় ছয় ঘণ্টা করা হয়েছে। তবু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস–সংকট চলছে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বিদেশ থেকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের একটি টার্মিনাল বন্ধ করা হয়। এরপর দেখা দেয় গ্যাসের তীব্র সংকট। ১৬ ফেব্রুয়ারি টার্মিনালটি চালু হয়েছে। সরবরাহ আগের পর্যায়ে গেছে গতকাল রোববার। ২৪ বা ২৫ ফেব্রুয়ারি এটি আবার রক্ষণাবেক্ষণের কথা রয়েছে। তবে এবার পুরোপুরি বন্ধ না করে সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে কাজ করা হতে পারে।
এলএনজি টার্মিনাল যখন বন্ধ হয়, তখন পাইপলাইন খালি হয়ে যায়। এতে পাইপলাইনে থাকা ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে যায়। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এ সমস্যা বেশি। সেখানকার লাইন অনেক পুরোনো। অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকায় গ্যাস সরবরাহকারী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির কর্মীরা বাড়ি গিয়ে পানি পরিষ্কার করছেন।
যদিও সার্বিকভাবে ঘাটতি থাকছেই। তিতাস সূত্র বলছে, দিনে তাদের চাহিদা ১৯০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ করা হচ্ছে ১৫০ কোটি ঘনফুট। সরবরাহ খুব শিগগির বৃদ্ধির আশা নেই।
সংকট যে কারণে
চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি ছিল আগে থেকেই। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নিয়ে ওই বছর ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে নতুন আবাসিক গ্যাস-সংযোগ বন্ধের নির্দেশ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে নতুন গ্যাস-সংযোগের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে যাচাই-বাছাই করে নতুন সংযোগ দেওয়া হতো। তখন গ্যাস–সংযোগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরে ২০১৯ সালের ২১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তিতাসের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি সংযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেয় জ্বালানি বিভাগ।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়নি; বরং উৎসাহ ছিল আমদানিতে। ২০১৮ সালে শুরু হয় গ্যাস আমদানি। ২০২২ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমতে থাকে। এতে ডলারের দাম বেড়ে যায়। ২০২২ সালের শুরুতে যে ডলার ৮৬ টাকা ছিল, তা এখন ১২২ টাকা। ডলারের বাড়তি দাম আবার আমদানির খরচ বাড়িয়ে দেয়।
আমদানি বাড়ানোর কথা বলে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপকভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। ২০০৯ সালে দুই চুলার মাসিক বিল ছিল ৪৫০ টাকা। সেটি আওয়ামী লীগ সরকার নিয়ে যায় ১ হাজার ৮০ টাকায়। অন্যদিকে শিল্পে গ্যাসের প্রতি ইউনিটের দাম ছিল ৫ টাকা ৮৬ পয়সা, যা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওঠে ৩০ টাকায়। কিন্তু ঘাটতি পূরণ হয়নি; বরং শিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে সরবরাহ বাড়াতে গ্যাস অনুসন্ধান, মজুত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয় ও আমদানির অবকাঠামো তৈরি করা দরকার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তখন গ্যাস খাতে সরকারের দেনা ছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাসাবাড়িতে গ্যাসের দাম বাড়ায়নি। তবে শিল্পে নতুন সংযোগে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয় প্রায় ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে সামিটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে করা ভাসমান টামিনাল স্থাপনের চুক্তি বাতিল করা হয়। আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার ‘টার্মশিট’ সই করেছিল, যা চুক্তিতে রূপান্তর না করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
দেশে গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন ও সংস্কারে জোর দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাশাপাশি গত সরকারের দেনা প্রায় পুরোটা পরিশোধ করেছে। যদিও ১৮ মাসের এই সরকার উৎপাদন ও সরবরাহ খুব একটা বাড়াতে পারেনি। আমদানি কিছুটা বাড়িয়ে উৎপাদন কমার ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছে।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে গ্যাসক্ষেত্র আছে ২৯টি। এতে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ টিসিএফ (লাখ কোটি ঘনফুট)। এর মধ্যে গত বছরের জুন পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে ২১ দশমিক ৭৮ টিসিএফ। মজুত বাকি আছে ৭ দশমিক ৯৬ টিসিএফ।
দেশীয় উৎপাদন কমছে
দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমছে উদ্বেগজনকহারে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২০১৭ সালেও দিনে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে। এখন উৎপাদন করা হচ্ছে ১৭০ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে গ্যাসক্ষেত্র আছে ২৯টি। এতে উত্তোলনযোগ্য মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ টিসিএফ (লাখ কোটি ঘনফুট)। এর মধ্যে গত বছরের জুন পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে ২১ দশমিক ৭৮ টিসিএফ। মজুত বাকি আছে ৭ দশমিক ৯৬ টিসিএফ। বর্তমান হারে উৎপাদন চললে বর্তমান মজুত দিয়ে চলা যেতে পারে সাত থেকে আট বছর। যদিও শেষ দিকে গ্যাসের একাংশ রেখেই উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়।
মজুত গ্যাসের মধ্যে সোয়া এক টিসিএফ আছে ভোলায়। যদিও ভোলার তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের একটিতে সক্ষমতার অর্ধেক উৎপাদিত হচ্ছে। অন্য দুটিতে উৎপাদন শুরু করা হয়নি। ভোলার গ্যাস জেলার বাইরে আনার অবকাঠামো নেই। এই গ্যাস সিএনজি করে সিলিন্ডারে ভরে ঢাকায় আনা হয়, তবে পরিমাণে সামান্য।
দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র হবিগঞ্জের বিবিয়ানার মজুত শেষের দিকে, তাই দ্রুত কমছে উৎপাদন। পেট্রোবাংলা বলছে, যত দিন যাবে, উৎপাদন কমতে থাকবে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে দরকার নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খনন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়নি; বরং উৎসাহ ছিল আমদানিতে। ২০১৮ সালে শুরু হয় গ্যাস আমদানি। ২০২২ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পিছিয়ে
অনুসন্ধানের তুলনায় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে সফলতার হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি বাংলাদেশে। তবু যথাযথ অনুসন্ধান করা হয়নি। সমুদ্রসীমা বিজয়ের ১৪ বছর পরও বঙ্গোপসাগরে তেল গ্যাস আবিষ্কার করা যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদেশি চারটি কোম্পানি—যুক্তরাষ্ট্রের কনোকো ফিলিপস, অস্ট্রলিয়ার সান্তোস, দক্ষিণ কোরিয়ার পস্কো দাইয়ু ও ভারতের ওএনজিসি কাজ শুরু করেছিল। চুক্তি সংশোধন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তুলেছিল তারা, বনিবনা না হওয়ায় তারা চলে যায়। স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানও জোর ছিল না। এরপর গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি। নতুন করে দরপত্রের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
২০২২ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার অনুসন্ধান, সংস্কার ও উন্নয়ন মিলিয়ে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়। কারণ, তত দিনে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে গিয়েছিল। আমদানির মতো বৈদেশিক মুদ্রাও ছিল না। ৫০টি কূপ খনন করা গেলে জাতীয় গ্রিডে দিনে প্রায় ৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার কথা। যদিও তা অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কূপ খননে জোর দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ২৫টি কূপের কাজ শেষ করা গেছে। বাকি ২৫টি এ বছর শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১০০ কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।
সংকট কাটাতে কী করা হচ্ছে—জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কূপ খনন বাড়ানো হচ্ছে। এ বছর ২৫টি কূপ খনন করা হবে। এলএনজি আমদানিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণে কয়েকটি কোম্পানির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
নতুন সরকারের সামনে গ্যাস খাতে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। প্রথমত, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, এলএনজি আমদানির নতুন অবকাঠামো তৈরি। তৃতীয়ত, দুর্নীতি ও গ্যাস চুরি রোধ করে অপচয় কমানো ও চতুর্থত, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিএনপির ইশতেহারে কী আছে
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে গ্যাস খাত নিয়ে তিনটি অঙ্গীকার রয়েছে। এক. ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও কূপ খননে বাপেক্সকে (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন পিএলসি) শক্তিশালী করে স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা হবে এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। দুই. জ্বালানির দাম সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ রাখতে ট্যারিফ নির্ধারণব্যবস্থার কার্যকারিতা জোরদার করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীন পর্যালোচনাপ্রক্রিয়া চালু করা হবে। তিন. গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে গ্যাসের ন্যায্য, নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিতরণকাঠামো ও মূল্যনীতি পর্যালোচনা করা হবে।
নতুন সরকারের সামনে গ্যাস খাতে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। প্রথমত, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, এলএনজি আমদানির নতুন অবকাঠামো তৈরি। তৃতীয়ত, দুর্নীতি ও গ্যাস চুরি রোধ করে অপচয় কমানো ও চতুর্থত, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, কারিগরি ক্ষতির নামে গত বছরে চার হাজার কোটি টাকার বেশি গ্যাস অপচয় হয়েছে, যার বড় অংশই চুরি। অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে অভিযান চলে। তবে কাজ খুব একটা হয় না। নতুন সরকার জোরদার অভিযান চালিয়ে আমদানি অথবা উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়াতে পারে। তবে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো ছাড়া ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়।
সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম তামিম প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস খাতে এ মুহূর্তে বড় কোনো সমাধান নেই। রেশনিং করেই চালাতে হবে। সার আমদানি করে অন্য খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যেতে পারে। বাসা, পরিবহনে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহারে জোর দিতে হবে। তেল ও কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে।
ম তামিম বলেন, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে সরবরাহ বাড়াতে গ্যাস অনুসন্ধান, মজুত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি সাশ্রয় ও আমদানির অবকাঠামো তৈরি করা দরকার।