কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চরফ্যাশন উপজেলা কার্যালয়ে গোপনে উদ্বোধনী ব্যানার টানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা কার্যালয়ের দেয়ালে অজ্ঞাত কেউ ব্যানারটি সেঁটে দেয়।
আশেপাশের কয়েকজন দোকানদার জানান, সকালে বাজারে এসে তারা কার্যালয়ে ব্যানারটি দেখতে পান। ব্যানারে লেখা ছিল— ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চরফ্যাশন উপজেলা কার্যালয়’। এতে সৌজন্য হিসেবে নাম ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং সদস্য মো. নাজমুল হোসেন জুয়েলের। ব্যানার লাগানোর পরপরই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। তবে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের আগে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম নয়ন ব্যানারটি খুলে ফেলে দেন।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন ব্যক্তি তাদের পোস্টে এই ঘটনাকে চরফ্যাশনের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার একটি পাঁয়তারা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বলেন, “চরফ্যাশনের জনপদে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সমন্বয়ক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি আওয়ামী দোসরদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। কারা ব্যানার টানিয়েছে প্রশাসনকে তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন কার্যালয়টি ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর থেকে অফিসটি সম্পূর্ণ অব্যবহৃত ছিল। মাঝে এনসিপি চরফ্যাশন উপজেলা শাখা অল্প সময়ের জন্য অফিসটি ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে সেটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।