ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে ভুগছে। যা সৃষ্টি করছে নাগরিকদের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ অবস্থায় বায়ুদূষণে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ার ভিজ্যুয়ালের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা তালিকার প্রথম স্থানে উঠে আসে।
২৭৮ স্কোর নিয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ২৭০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার স্কোর ২০২।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে হলে তা ভালো, ৫১ থেকে ১০০ হলে মধ্যম, ১০১ থেকে ১৫০ হলে সতর্কতামূলক, ১৫১ থেকে ২০০ হলে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে চরম অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
একিউআই সূচক অনুযায়ী ঢাকার বায়ুর মান ২৭৮ হওয়ায় তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। এই পর্যায়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে সুস্থ মানুষেরও শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, গলা খুসখুসে ভাব ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসযন্ত্রের রোগীদের ঝুঁকি আরও বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুম, নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং আশপাশের অঞ্চলের দূষণের প্রভাব মিলেই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। বাতাসে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি থাকায় চোখ জ্বালা, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির সমস্যা বাড়ছে।
চিকিৎসকরা বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান এবং ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার বা গাছপালা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, কেবল সাময়িক সতর্কতা নয়—দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং নির্মাণকাজে নিয়ম মানা নিশ্চিত না করলে ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।