Image description

মাসকয়েক আগে এখন টিভির সম্পাদকীয় প্রধান তুষার আব্দুল্লাহ আমার সাথে চরম অন্যায় করেছিলেন। প্রধান বার্তাকক্ষ সম্পাদক রাশেদা শিমুলের প্ররোচনায়, যিনি জুলাইবিরোধী ও আওয়ামী একজন পরিক্ষিত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত, আমাকে অনলাইনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লেখালেখি করা, ভারত বিরোধী মনোভাব এবং জুলাই চেতনা ধারণ করে ফেসবুকে মত প্রকাশের কারণে অন্যায়ভাবে টার্মিনেশন লেটার পাঠায়। 

 

রাশেদা শিমুলের ঘনিষ্ঠ, নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত আওয়ামী দোসর অন্ময় কর্মকারকে তুষার আব্দুল্লাহ ইন্টারন্যাশনাল ইনচার্জ হিসেবে এখন টিভিতে নিয়ে আসেন। আমার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী লেখালেখি নিয়ে তিনি চরম অসন্তোষ ও বিদ্বেষ পোষণ করেন। একপর্যায়ে রাশেদা শিমুল সিন্ডিকেট মাসে ০৮টি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠানোর পরও আমাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ আখ্যা দিয়ে টার্মিনেশন লেটার পাঠায়।

 

আমি শুধু একটি ভালো দিনের অপেক্ষায় ছিলাম, চরম কর্মব্যস্ততার কারণে সেই সময় এই অন্যায়ের প্রতিবাদও জানাতে পারিনি। কিন্তু আজ যখন দেখলাম এখন টিভিতে জুলাই স্পিরিট ধারণকারী চারজন সাংবাদিককে জোরপূর্বক কর্মবিরতিতে পাঠানো হয়েছে, তখন প্রতিবাদ জানিয়ে লিখতেই হলো। এখন টিভিতে আওয়ামী লীগের দোসররা নিরাপদ, আর জুলাই স্পিরিট ধারণকারীরা বিপদে, এটাই বাস্তবতা।

 

আজ যখন বাংলাদেশের জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিল, ঠিক প্রথম দিনেই এখন টিভির চার সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ মূলত বিএনপি সরকারের ইমেজ নষ্ট করার একটি ঘৃণ্য অপচেষ্টা। সরকারের প্রথম দিনেই বিএনপিকে খাটো করার প্রয়াসে এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই আমি মনে করি।

 

গত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসিনা সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি লেখালেখি করে গেছি। আমি কোনো দলের শুভাকাঙ্ক্ষী, কিংবা তারেক রহমানের নেতৃত্বের কতটুকু সফলতা দেখতে চাই, তা সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রী সাক্ষ্য দিতে পারবেন। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার ঠিক আগমুহূর্তে আমি তাকে যে বার্তা দিয়েছিলাম, তার সাক্ষী সেই মন্ত্রী। সাংবাদিকতার সঙ্গে আমি কোনো আপস করিনি, সব সময় সৎ সাংবাদিকতা প্রাকটিস করে গেছি। বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি এজন্যই উল্লেখ করছি, যাতে আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে এই ইস্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত না করতে পারে।

 

এখন টিভিতে শেখ হাসিনার দোসররা পদোন্নতি পাচ্ছে, আর স্বৈরাচারবিরোধী ও জুলাইয়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সংবাদকর্মীরা চাকরিচ্যুত হচ্ছেন। প্রো-জুলাই কারও চাকরিচ্যুতি আমরা কামনা করি না, সে বিএনপি, এনসিপি কিংবা জামায়াতেরই হোক। নতুন বাংলাদেশে আমরা এমন আর একটি ঘটনাও দেখতে চাই না। জুলাইয়ের পক্ষে থাকা কি তবে এই দেশে ইতিমধ্যেই অপরাধ হয়ে গেলো? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই তো জুলাইয়ের যোদ্ধা এবং যিনি জুলাই স্পিরিট ধারণ করেন। 

 

সময় টিভিতে থাকাকালে রাশেদা শিমুলরা কীভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাতেন, তা আমরা ভুলে যাইনি। তুষার আব্দুল্লাহ ও রাশেদা শিমুল তখন সময় টিভিতে একই টিম হিসেবে কাজ করতেন। এখন টিভি ও সময় টিভি উভয়ই মূলত সিটি গ্রুপের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান।

 

তুষার আব্দুল্লাহর ছত্রছায়ায় সাংবাদিক নামধারী আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ বর্তমানে এখন টিভিতে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে। তারা মূলত পুরনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো পুনর্দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একসময় এরা বিএনপি সরকারের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত বিএনপির সঙ্গে সখ্যতা দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করছে।

 

আমি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সাংবাদিক মাহমুদ রাকিব, আজহারুল ইসলাম, মুজাহিদ শুভ ও বেলায়েত হোসাইনের বাধ্যতামূলক ছুটি প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহালের জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আওয়ামী সকল দোসরকে এখন টিভি থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই। মজলুম জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন সরকার কারও প্রতি কোনো জুলুম করবে না, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

~ নাঈম হাসান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক, ভাইস-প্রেসিডেন্ট, ছাত্র সংসদ, এঙ্গলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন, যুক্তরাজ্য