নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার মতো বড় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন তিনি। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো দেড় বছরে অনেকটা বন্ধ্যা সময় গেছে শিক্ষায়। দৃশ্যমান তেমন কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের বড় একটি সময় কেটেছে আন্দোলনেই। শিক্ষকদের প্রতিটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মূলত আন্দোলন সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন চললেও সাবেক উপদেষ্টা সি আর আবরারের প্রশাসন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিও দিয়ে যাননি। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণের আশ্বাস দিয়েও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সঙ্গে করা হয়েছে প্রহসন। দেশের শিক্ষাধারার বৃহৎ অংশই পরিচালিত হয় বেসরকারি ধারায়। এসব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া নানান বিষয় নিয়ে শিক্ষা সেক্টরে রয়েছে অসন্তোষ।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ধরে রাখা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনিয়মের লাগাম টানা শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষায় মানের ক্ষেত্রে গত প্রায় দেড় যুগে বড় ধস নেমেছে। এই মানোন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে নতুন শিক্ষামন্ত্রীকে। শিক্ষাধারায় এখনো মাঝে-মধ্যে নকলের অভিযোগ ওঠে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষাব্যবস্থায় নকল নির্মূলে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন মিলন। শিক্ষা থেকে নকল পুরোপুরি নির্মূলে এবারও ভূমিকা রাখতে হবে তাঁকে। প্রতি বছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে প্রায় ৩০ কোটি বই বিতরণ করে থাকে সরকার। কিন্তু এই বই বিতরণ করতে গিয়ে প্রতি বছর সমালোচনার মধ্যে পড়তে হয়। বিলম্বে বই বিতরণ, মানহীন বই ছাপা, ভুলে ভরা পাঠ্যবই ছাড়াও অনেক অভিযোগ থাকে এই পাঠ্যবইকে নিয়ে। জানুয়ারির শুরুতে নির্ভুল বই বিতরণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক বদলি নিয়ে বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর-প্রতিষ্ঠানের ৪৭৫ জন ক্যাডার কর্মকর্তার বদলি করা হয়। বৃহৎ এ বদলি প্রক্রিয়ায় বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। আলোচিত এই বদলি কারবারে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের দপ্তর এবং কলেজ শাখার বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম উঠে আসে। শিক্ষায় বদলির বাণিজ্য বন্ধ করা নতুন শিক্ষামন্ত্রীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব পাওয়ায় শিক্ষকরা আশাবাদী। রাজধানীর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রশাসনে অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও কাজ করার একাগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবেন বলে বিশ্বাস করি। দেশের তরুণ ও যুবসমাজকে জনশক্তিতে রূপ দিতে শিক্ষামন্ত্রী উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা রাখেন তিনি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক নিয়োগে দেশব্যাপী অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ মেলে দেদার। অভিযোগ রয়েছে- দায়িত্বপ্রাপ্তদের কঠোর পদক্ষেপ না থাকার কারণেই শিক্ষক নিয়োগের মতো পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোতে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া এহছানুল হক মিলনকে শিক্ষক নিয়োগে অসদুপায় ঠেকাতে কঠিন ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষায় দফায় দফায় কারিকুলামে পরিবর্তন আনায় ভোগান্তির শিকার হন ছাত্রছাত্রীরা। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কারিকুলাম পরিবর্তন শিক্ষাধারায় বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনকে।