গত কয়েক দিনে বিভিন্ন উপকূলে ভেসে আসা অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ইতালি। মঙ্গলবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এসব মরদেহ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির সিসিলি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়ার সমুদ্রসৈকত থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, শীতকালীন ঝড়ের সময় গত কয়েক সপ্তাহে সমুদ্রে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় অভিবাসন রুটটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সাগরের আবহাওয়া ছিল প্রতিকূল। জীবনের ঝুঁকি জেনেও লিবিয়া ও তিউনিশিয়ার উপকূল থেকে পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অনেক অভিবাসী সমুদ্র অনুপযোগী নৌকায় চড়ে যাত্রা করেন।
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধারে সক্রিয় সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, এই শীতে কয়েকশ অভিবাসনপ্রত্যাশী সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। কোস্ট গার্ড, বেসামরিক জাহাজ, যেমন মাছধরার ট্রলারগুলোও সমুদ্র থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।
মঙ্গলবার কালাব্রিয়ার সমুদ্রসৈকত শহর ত্রোপিয়ার কাছে কয়েকজন শিক্ষার্থী একটি মৃতদেহ দেখতে পায় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে তার পরনে কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেট ছিল। এছাড়া একজন নারীর মৃতদেহও পাওয়া গেছে। ওই মরদেহের সঙ্গেও কোনও পরিচয়পত্র ছিল না। এসব ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে প্রসিকিউটরেরা।
ইতালির ছোট দ্বীপ পান্তেলেরিয়া থেকেও অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু রয়েছে কি না তা এখনও জানা যায়নি৷ জানুয়ারিতে বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছিল, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ না থাকার পরেও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় যারা ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন, তারা এখনও প্রাণঘাতী এবং বিপজ্জনক যাত্রার ঝুঁকি নিচ্ছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আশঙ্কা করছে, চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ জানুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর পথে কয়েকশ মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন।
আইওএমের মুখপাত্র জর্জ গিলান্ডো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, গত ২৩ ও ২৫ জানুয়ারি তিনটি নৌ-দুর্ঘটনার কথা জানা গেছে, যেখানে অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আইওএম বলেছে, ২০২৫ সালে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অন্তত এক হাজার ৩৪০ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইনফোমাইগ্রেন্টস।