Image description
 

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তেহরানের আলোচকরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রস্তাব নিয়ে ফিরবেন বলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমান হামলার হুমকির মধ্যেই এই আলোচনা শুরু হয়, যা বর্তমানে একটি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানগুলো ঘুচাতে ইরান বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরে আসবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এখনও অনেক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনার বাকি আছে।

পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, কিছু দিক থেকে এটি ভালো হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য দিক থেকে এটা স্পষ্ট যে, ট্রাম্প কিছু রেড লাইন বা চরম সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা ইরানিরা এখনও মেনে নিতে বা সেগুলো নিয়ে কাজ করতে রাজি নয়। তাই আমরা এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাব।

এর আগে এক বিবৃতিতে ইরান জানায়, একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির শর্তাবলীতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সাধারণ ঐকমত্যে’ পৌঁছেছে, যার ফলে তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক যুদ্ধের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। তবে আলোচনার শুরু থেকেই এর পরিধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল; বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মার্কিন বিমান হামলার হুমকির মুখে তেহরানকে আলোচনায় বসিয়েছিলেন।

  

জেনেভায় মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, আমরা একগুচ্ছ নির্দেশক নীতির ওপর একটি সাধারণ চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি, যার ভিত্তিতে আমরা এখন থেকে অগ্রসর হব এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া তৈরির দিকে এগিয়ে যাব।

তিনি আরও জানান, দুই পক্ষই চুক্তির জন্য নিজ নিজ খসড়া তৈরি করবে এবং তা বিনিময় করবে। এরপর তৃতীয় দফার আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরবর্তী ধাপটি হবে ‘আরও কঠিন এবং বিস্তারিত।’