৩৫ বছর পর আবারও মন্ত্রী পেল বগুড়ার মানুষ। দেশের ২য় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি থাকলেও মন্ত্রিত্ব পেতে ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বগুড়ার মানুষকে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় সুযোগ পাওয়ায় খুশির ঠেলা বইছে বগুড়ায়।
বগুড়ার ইতিহাসে মন্ত্রীত্বের সুযোগ খুব বেশি আসেনি। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে জেলার আর কোনো প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। তবে ২০০১ সালে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে ৩৫ বছর পর মীর শাহে আলম দায়িত্ব পেলেন। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তিনি।
এর আগে বিএনপি সরকারের সময়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ নিযুক্ত করা হয় বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল বারী ডিনাকে।
এরশাদের শাসনামলে বগুড়ার মামদুদুর রহমান চৌধুরী, এবিএম শাহজাহান, মোজাফ্ফর হোসেন, কর্নেল (অব.) আব্দুল মমিন মন্ডল মন্ত্রী ছিলেন।
স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫৩ বছরে ছয়বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেও বগুড়ায় কোনো মন্ত্রী করেনি আওয়ামী লীগ। বগুড়ার মতো প্রাচীন ও ঐতিহ্যের শেকড়ে বাঁধা জনপদকে মন্ত্রী থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। ২০১২ সালে শেখ হাসিনার সরকার চতুর্থবারের মতো মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেন। কিন্তু সেখানেও স্থান হয়নি বগুড়ার কোনো এমপির। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা গঠন হলেও তাতে বগুড়ার প্রতিনিধিত্ব ছিল না। অথচ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে স্রোতের বিপরীতে ভোট দিয়ে জেলার মানুষ শেখ হাসিনাকে বগুড়ার দুটি আসন উপহার দিয়েছিল। সেই সময় বগুড়ার কাউকে মন্ত্রী না করায় খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেই ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছিল।
বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক বলেন, তারেক রহমান বগুড়া থেকে নির্বাচিত হবার কারণে আমাদের আশা ছিল আমরা এবার প্রধানমন্ত্রী পাব। কিন্তু দলীয় কারণে হয়তো তিনি এ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। তবে আমাদের আশাহত করেননি। এজন্য আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, ৩৫ বছর পর বগুড়ায় মন্ত্রী হিসেবে আমাদের নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনীত করা হয়েছে। এজন্য দলের প্রধান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই।
বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, বগুড়ায় মন্ত্রিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আক্ষেপ ছিল। সেই আক্ষেপ থেকে বগুড়াবাসী মুক্তি পেলেন।
নতুন মন্ত্রী পরিষদের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ১৭ বছর ধরে বগুড়া অবহেলিত। আমরা চেষ্টা করবো পিছিয়ে পড়া জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করার। সেই সঙ্গে অন্য জেলাও আবার পিছিয়ে না পড়ে সেটা দেখতে হবে। বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশক্রমে এবং ওনার পরামর্শ নিয়ে যতটুকু করা যায় তা আমি করব, ইনশাআল্লাহ।
শীর্ষনিউজ