Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। এতে বিএনপির প্রার্থী ডা. আব্দুস সালামের কাছে হেরে যান জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী আবদুল হাকিম।

কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিগবার পিতা মাওলানা আবদুল হাকিম । বাবার জন্য কাজ করেও ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি সিবগাতুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) অনুষ্ঠিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. আব্দুস সালাম পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোট । প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান পাঁচ হাজারের কিছু বেশি।

 

জামায়াত প্রার্থীর ছেলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি হওয়ায় এলাকাবাসীর ধারণা ছিল তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে প্রত্যাশিত সেই প্রভাব পড়েনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পারিবারিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ থাকলেও সেটি সরাসরি ভোটে রূপান্তর করা কঠিন। মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের প্রভাব তুলনামূলক কম।

 

স্থানীয় অনেকের মতে, সংগঠনের বড় পদ থাকলেই ভোট নিশ্চিত হয় না, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয়কর্মী থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সিবগাতুল্লাহ সিগবা তার বাবার এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছিলেন, আমার বাবার জন্য কি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে হবে? আমি জানি, চাইতে হবে না।

এরকম বক্তব্য তিনি দিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন। যার কারণে শিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। যেখানে বাবার জন্য ভোট চাইবেন, সেখানে তিনি অতি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দেখান।

আবার অনেকের মতে, নির্বাচনী মাঠে সিবগাতুল্লাহ সিগবার এ রকম কিছু আক্রমণাত্মক বক্তব্য ভোটের মাঠে তার বাবাকে পেছনে ফেলেছে।

কেন্দ্রগুলোতে বিএনপির শক্ত অবস্থানের বিপরীতে জামায়াতের অবস্থান দুর্বল ছিল। শিবিরের চেয়ে উপজেলা ছাত্রদল মাঠে সক্রিয় কাজ করার কারণে কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার পরও সেরকম প্রভাব ফেলতে পারেননি সিবগাতুল্লাহ।

অনেকেই আবার বলেছেন, স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের শিবির নেতাকর্মীদের সমন্বয়হীনতার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবিরের অনেকে বলেন, সিবগাতুল্লাহ সিগবার পরিবারের কাউকে নির্বাচনী মাঠে তেমন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।