Image description

ঝিনাইদহের রাজনীতিতে বড় পালাবদলের সাক্ষী হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গিয়ে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলায়। এবার জেলার চারটি সংসদীয় আসনের তিনটি আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। একটি পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

 

অতীতে ঝিনাইদহের চারটি আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হতো। স্থানীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক বিস্তার ও ব্যক্তি নির্ভর ভোট ব্যাংকই ছিল তাদের মূল ভরসা। এবারের নির্বাচনে সেই ভিত্তিতে স্পষ্ট ভাঙন দেখা গেছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের মধ্যেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।

এটি কেবল প্রার্থীভিত্তিক পরাজয়, নাকি দলীয় অবস্থানের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

 

ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আব্দুল মজিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন এক  লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট।

আসটিতে বিএনপির পরাজয়ের পেছনে দায়ী করা হচ্ছে দলীয় কোন্দল ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন না পাওয়া।

 

ঝিনাইদহ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিয়ার রহমান। দাঁড়পাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেনিএক লাখ ৭৫ হাজার  ৮৫৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থীর হারের কারণ হিসেবে একাধিক বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দলীয় একাধিক জনপ্রিয় প্রার্থী থাকা স্বত্ত্বেও অজনপ্রিয় ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া ও দলীয় কোন্দল। সমর্থকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ এবং তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন পেতে ব্যর্থতাকেও তাঁর পরাজয়ের পেছনে দায়ী করা হচ্ছে।

 

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব। তিনি দাঁড়পাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৯৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁনের পরাজয়ের পেছনে অনেকগুলো বিষয়কে দায়ী করা হচ্ছে। 

রাশেদ খানের বাড়ি সদর উপজেলায় হওয়ায় নির্বাচনে কম গণসংযোগ, স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকা, কর্মী-সমর্থদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ রয়েছে বিষয়ের মধ্যে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির একাধিক গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে প্রার্থী বাছাই, কমটি গঠন ও তৃণমুল পর্যায়ে নিষ্ক্রিয়তার কারণে বিএনপির দুর্গ হিসেবে খ্যাত এই আসন তিনটিতে পরাজায় হয়েছে প্রার্থীদের। 

অন্যদিকে, গত দেড় বছর ধরে জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা-সহায়তা, মানবিক কার্যক্রম ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটব্যাংকে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া নারী ও তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। ফলে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে দলটির প্রার্থীরা  নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।